খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeবিশ্ব সংবাদইন্ডিয়া নিউজপ্যাংগং লেকের জলে গাড়ি চালিয়ে বড় বিপদ! পর্যটকদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

প্যাংগং লেকের জলে গাড়ি চালিয়ে বড় বিপদ! পর্যটকদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

গাড়ির জ্বালানি, তেল বা অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান পানিতে মিশে গেলে জল দূষণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। পাশাপাশি গাড়ির চলাচলের কারণে লেকের প্রাকৃতিক ভারসাম্যও বিঘ্নিত হতে পারে। তাই পরিবেশবিদরা দীর্ঘদিন ধরেই এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সতর্ক করে আসছেন।

ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য লাদাখের মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতীক প্যাংগং লেক। নীলাভ স্বচ্ছ জল, চারপাশে বরফে ঢাকা পাহাড় আর নির্জন পরিবেশের জন্য এই লেক দেশ-বিদেশের লাখো পর্যটককে আকর্ষণ করে। কিন্তু সেই অনিন্দ্যসুন্দর পরিবেশেই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করে বিতর্কের জন্ম দিলেন কয়েকজন পর্যটক। লেকের জলে গাড়ি চালিয়ে শুধু পরিবেশের ক্ষতিই করেননি, শেষ পর্যন্ত বড় অঙ্কের জরিমানাও গুনতে হয়েছে তাঁদের।

লাদাখের প্যাংগং লেক বহু বছর ধরেই প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম আকর্ষণ। অসংখ্য চলচ্চিত্রে এই লেকের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা গেছে। ফলে এখানে এসে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান অসংখ্য মানুষ।

কিন্তু সম্প্রতি কয়েকজন পর্যটক সেই সৌন্দর্যকে উপেক্ষা করে লেকের অগভীর জলে গাড়ি চালাতে শুরু করেন। গাড়ির চাকার কারণে শান্ত পানিতে সৃষ্টি হয় বড় ধরনের আলোড়ন। এই ঘটনায় শুধু প্রাকৃতিক পরিবেশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, বরং লেকের বাস্তুতন্ত্রের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ঘটনার সময় এলাকায় দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের নজরে বিষয়টি আসতেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট গাড়িগুলো আটক করা হয় এবং আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে পর্যটকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

প্রতিটি গাড়ির মালিককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধের পর তাঁদের গাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হলেও প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।

প্যাংগং লেক শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, এটি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের অংশ। উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের এই লেকের পরিবেশ অত্যন্ত নাজুক। এখানে সামান্য দূষণ বা মানুষের অসচেতন কর্মকাণ্ড দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

গাড়ির জ্বালানি, তেল বা অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান পানিতে মিশে গেলে জল দূষণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। পাশাপাশি গাড়ির চলাচলের কারণে লেকের প্রাকৃতিক ভারসাম্যও বিঘ্নিত হতে পারে। তাই পরিবেশবিদরা দীর্ঘদিন ধরেই এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সতর্ক করে আসছেন।

এই ঘটনাই প্রথম নয়। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চাংথাং কোল্ড ডেজার্ট স্যাংচুয়ারিতেও একটি গাড়িকে একই ধরনের বেপরোয়া আচরণ করতে দেখা যায়। সংরক্ষিত এই এলাকায় গাড়ি চালিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি করার চেষ্টা হলে বন্যপ্রাণ বিভাগ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে।

সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলে এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। ফলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের অভিযানে উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব, চণ্ডীগড় এবং হিমাচল প্রদেশ থেকে আসা পর্যটকদের কয়েকটি গাড়ির বিরুদ্ধে আইন ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া যায়।

মোট চারটি গাড়ির প্রত্যেকটিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে আদায় করা হয়েছে ২ লাখ টাকা জরিমানা। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, পর্যটনের নামে পরিবেশ ধ্বংসের কোনো সুযোগ নেই।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্রে এখন দায়িত্বশীল পর্যটনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি সেটিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করাও প্রত্যেক ভ্রমণকারীর দায়িত্ব।

লাদাখ প্রশাসনের এই কঠোর ব্যবস্থা অন্য পর্যটকদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। ভ্রমণের সময় স্থানীয় আইন মেনে চলা, পরিবেশ দূষণ থেকে বিরত থাকা এবং সংরক্ষিত এলাকায় নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করাই একজন সচেতন পর্যটকের পরিচয়।

প্যাংগং লেকের মতো সংবেদনশীল প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, প্রতিটি পর্যটকেরও নৈতিক কর্তব্য। সাময়িক আনন্দের জন্য পরিবেশের ক্ষতি করলে তার প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃতির ওপর পড়তে পারে।

তাই প্রকৃতিকে ভালোবাসতে হলে তাকে সম্মান জানাতে হবে এবং সব নিয়ম মেনে দায়িত্বশীলভাবে ভ্রমণ করতে হবে। লাদাখ প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সেই বার্তাই আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছে।