বিশ্বকাপ মানেই উত্তেজনা, নাটক, আর অপ্রত্যাশিত সব গল্প। ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ হতেই ফুটবল দুনিয়ায় নতুন আলোচনার ঝড় উঠেছে। কারণ একটি শক্তিশালী সুপারকম্পিউটার ইতিমধ্যেই হিসাব কষে বলে দিচ্ছে—শেষ পর্যন্ত কারা খেলতে পারে ফাইনালে, কার পথ সহজ, আর কার সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন লড়াই।
চল একটু সহজ করে বুঝি, যেন বন্ধুর সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছি।
সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী কী বলছে?
এই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২২ সালের মতোই আবারও ফাইনালে মুখোমুখি হতে পারে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স। মানে, লিওনেল মেসি বনাম কিলিয়ান এমবাপ্পে—একই নাটক আবার!
সুপারকম্পিউটার প্রতিটি দলের জন্য শতাংশ দিয়ে দেখিয়েছে তারা কতদূর যেতে পারে। এই সংখ্যাগুলোই মূলত ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।
সেমিফাইনালে কারা এগিয়ে?
সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনায় সবচেয়ে এগিয়ে আর্জেন্টিনা (৫৮%)। এরপর ফ্রান্স (৫০%)। আর ইংল্যান্ড আছে তৃতীয় স্থানে (৪২%)।
ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল এর দল ভালো সম্ভাবনা নিয়ে এগোলেও, সুপারকম্পিউটার বলছে তারা সম্ভবত সেমিফাইনালেই থেমে যাবে।
ভাবো, তুমি একটা টুর্নামেন্ট খেলছো। শুরুতে সব ঠিকঠাক চলছে, কিন্তু শেষের দিকে এসে বড় দলের সামনে পড়ে গেলে চাপটা অন্যরকম হয়। ঠিক তেমনই অবস্থা ইংল্যান্ডের।
ইংল্যান্ডের কঠিন পথ
ইংল্যান্ড যদি এগোতে চায়, তাহলে তাদের প্রথমে হারাতে হবে DR Congo-কে। এরপর আসতে পারে ইকুয়েডর বা মেক্সিকো। তারপর কোয়ার্টার ফাইনালে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ব্রাজিল, জাপান, নরওয়ে বা আইভরি কোস্ট।
এতগুলো ধাপ পেরিয়ে যদি তারা সেমিফাইনালে পৌঁছায়, তাহলে সামনে থাকবে আর্জেন্টিনা।
মানে, শেষের দিকে এসে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।
ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা
সুপারকম্পিউটার বলছে, ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনায় এগিয়ে আর্জেন্টিনা (৩৪%) এবং ফ্রান্স (৩১%)। ইংল্যান্ডের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম—২৭%।
এই হিসাব অনুযায়ী, নিউ জার্সিতে ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা এই দুই দলেরই।
আর্জেন্টিনার সহজ পথ
কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনার পথ সবচেয়ে সহজ বলা হচ্ছে।
প্রথমে তারা খেলবে তুলনামূলক দুর্বল দল কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে। এরপর অস্ট্রেলিয়া বা মিশরের সঙ্গে ম্যাচ। কোয়ার্টার ফাইনালে আসতে পারে ঘানা, কলম্বিয়া, আলজেরিয়া বা সুইজারল্যান্ড।
দেখতেই পাচ্ছো, বড় শক্তিশালী দলের সঙ্গে তাদের দেখা হওয়ার সম্ভাবনা সেমিফাইনাল পর্যন্ত কম।
মানে, তুমি যদি একটা রেসে দৌড়াও আর মাঝপথে বাধা কম থাকে, তাহলে শেষ পর্যন্ত পৌঁছানো অনেক সহজ হয়ে যায়—ঠিক সেটাই আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে হচ্ছে।
প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ কখন?
আর্জেন্টিনার জন্য আসল পরীক্ষা সম্ভবত সেমিফাইনালে। তখন তাদের সামনে আসতে পারে ব্রাজিল বা ইংল্যান্ড।
এই জায়গাটাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
ফ্রান্সের কঠিন যাত্রা
অন্যদিকে ফ্রান্সের পথ মোটেও সহজ নয়।
প্রথমেই তাদের খেলতে হবে সুইডেনের বিপক্ষে। তারপর সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ জার্মানি বা প্যারাগুয়ে।
তারপর কোয়ার্টার ফাইনালে আসতে পারে নেদারল্যান্ডস, মরক্কো, কানাডা বা দক্ষিণ আফ্রিকা।
এখানে একটা ব্যাপার বোঝা যায়—ফ্রান্সকে শুরু থেকেই শক্ত প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
সেমিফাইনালে বড় সংঘর্ষ
ফ্রান্স যদি এতদূর যেতে পারে, তাহলে সেমিফাইনালে তাদের লড়তে হতে পারে স্পেন বা পর্তুগালের মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে।
মানে, তাদের জন্য প্রতিটা ধাপই একটা ফাইনালের মতো।
শেষ পর্যন্ত কে জিতবে?
সব হিসাব-নিকাশ শেষে সুপারকম্পিউটার বলছে—ফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি (২১%)।
অর্থাৎ, ফাইনালে তারা আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারে।
যদি এমনটা হয়, তাহলে কোচ দিদিয়ের দেশঁ এর জন্য এটি হবে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কারণ তিনি ইতিমধ্যেই ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জিতেছেন, আর এই জয় হলে তার কোচিং ক্যারিয়ার এক অসাধারণ সমাপ্তি পাবে।
কেন এই ভবিষ্যদ্বাণী এত গুরুত্বপূর্ণ?
অনেকেই ভাবতে পারে—কম্পিউটার আবার ফুটবল বুঝে নাকি?
আসলে এই সুপারকম্পিউটার হাজার হাজার ম্যাচের ডেটা, খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, দলের ফর্ম—সব কিছু বিশ্লেষণ করে।
তাই এর ভবিষ্যদ্বাণী পুরোপুরি ভুলও হয় না, আবার একদম ঠিকও হয় না।
ফুটবল তো শেষ পর্যন্ত মানুষের খেলা। একটা গোল, একটা ভুল, বা একটা মুহূর্ত—সবকিছু বদলে দিতে পারে।
শেষ কথা
সব হিসাব বলছে আবারও আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্স ফাইনাল হতে পারে। কিন্তু তুমি আমি সবাই জানি—বিশ্বকাপে কিছুই নিশ্চিত না।
হয়তো নতুন কোনো দল চমক দেখাবে, হয়তো কোনো আন্ডারডগ ইতিহাস লিখবে।
এই অনিশ্চয়তাই তো ফুটবলের আসল মজা, তাই না?


