খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালইংল্যান্ডের দাপট! হ্যারি কেনের ঐতিহাসিক রেকর্ডে পানামাকে হারিয়ে নকআউটে থ্রি লায়ন্স

ইংল্যান্ডের দাপট! হ্যারি কেনের ঐতিহাসিক রেকর্ডে পানামাকে হারিয়ে নকআউটে থ্রি লায়ন্স

৬২ মিনিটে বুকায়ো সাকার নেওয়া কর্নার থেকে অসাধারণ দক্ষতায় গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। এরপর মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে হ্যারি কেনের গোলের সুযোগও তৈরি করে দেন।

বিশ্বকাপের মঞ্চে বড় দলগুলোর জন্য গ্রুপ পর্ব পার হওয়া শুধু জয় পাওয়ার বিষয় নয়, বরং আত্মবিশ্বাস তৈরি করারও একটি বড় ধাপ। ২০২৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ঠিক সেটাই করেছে। পানামার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে শুধু গ্রুপের শীর্ষস্থানই নিশ্চিত করেনি থ্রি লায়ন্স, বরং ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে অধিনায়ক হ্যারি কেনের নতুন ইতিহাস গড়ার কারণে।

ফুটবলে রেকর্ড গড়ার জন্য বড় মঞ্চের প্রয়োজন হয়। আর হ্যারি কেন ঠিক সেটাই করলেন বিশ্বকাপের মতো সবচেয়ে বড় আসরে। পানামার বিপক্ষে গোল করে তিনি ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নেন।

এর আগে এই কৃতিত্ব ছিল কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকারের দখলে। কিন্তু কেনের ধারাবাহিকতা, গোল করার দক্ষতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সামনে আসার ক্ষমতা তাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটি ছিল একদম ক্লাসিক স্ট্রাইকারের গোল। জুড বেলিংহামের নিখুঁত ক্রস থেকে অসাধারণ হেডে বল জালে পাঠিয়ে দর্শকদের উল্লাসে ভাসিয়ে দেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।

ম্যাচের প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডকে কিছুটা অগোছালো দেখাচ্ছিল। পানামা নিজেদের রক্ষণ শক্ত করে রেখেছিল। ফলে আক্রমণে বারবার চেষ্টা করেও গোল পাচ্ছিল না ইংল্যান্ড।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে যেন বদলে গেল পুরো দৃশ্যপট। সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রে ছিলেন জুড বেলিংহাম।

৬২ মিনিটে বুকায়ো সাকার নেওয়া কর্নার থেকে অসাধারণ দক্ষতায় গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। এরপর মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে হ্যারি কেনের গোলের সুযোগও তৈরি করে দেন।

পুরো ম্যাচে তার দৌড়, বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং এবং আক্রমণ তৈরির ক্ষমতা ইংল্যান্ডকে নতুন গতি দেয়। তাই ম্যাচ শেষে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার তার হাতেই ওঠে, যা একেবারেই প্রত্যাশিত ছিল।

স্কোরলাইন ২-০ হলেও ম্যাচটি ইংল্যান্ডের জন্য খুব সহজ ছিল না।

পানামা শুরু থেকেই রক্ষণভাগে বেশ সংগঠিত ফুটবল খেলেছে। তারা দীর্ঘ সময় ইংল্যান্ডকে গোলের সুযোগ তৈরি করতে দেয়নি। ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তারা সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেছে।

এক পর্যায়ে পানামা গোলও পেয়ে গিয়েছিল বলে মনে হচ্ছিল। ডেভিসের পাস থেকে ফাজার্দো বল জালে পাঠান। কিন্তু অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়।

রিপ্লেতে দেখা যায় সিদ্ধান্তটি খুব কাছাকাছি হলেও সঠিক ছিল।

জয়ের আনন্দের মধ্যেও কোচ টমাস টুখেলের চিন্তার কারণ রয়েছে।

পানামা পুরো টুর্নামেন্টে এখনও কোনো গোল করতে না পারলেও ইংল্যান্ডের রক্ষণকে কয়েকবার সমস্যায় ফেলতে সক্ষম হয়েছিল। বড় দলের বিপক্ষে খেলতে গেলে এই ধরনের দুর্বলতা বিপদ ডেকে আনতে পারে।

নকআউট পর্বে প্রতিপক্ষের মান অনেক বেশি হবে। তাই শুধুমাত্র জয় পেলেই হবে না, দলীয় ভারসাম্যও ঠিক রাখতে হবে।

গ্রুপ পর্ব শেষ, এখন শুরু আসল পরীক্ষা।

নকআউট ফুটবল একেবারে ভিন্ন ধরনের চাপ তৈরি করে। এখানে ভুলের সুযোগ নেই। একটি ভুলই পুরো টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের কারণ হতে পারে।

ইংল্যান্ড এখন শেষ ৩২ পর্বে সেনেগালের মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচটি সহজ হবে না। অতীতে দুই দলের লড়াইয়ে মিশ্র ফল দেখা গেছে।

তবে ইংল্যান্ড সমর্থকদের বিশ্বাস, এই দলটির মধ্যে অনেক দূর যাওয়ার সামর্থ্য রয়েছে।

ইংল্যান্ড সমর্থকদের সেই পুরনো স্বপ্ন আবারও জেগে উঠেছে। প্রতি চার বছর পর বিশ্বকাপ আসে, আর প্রতিবারই তারা আশায় বুক বাঁধে।

গ্রুপ পর্বের লক্ষ্য তারা পূরণ করেছে। দলও ছন্দে রয়েছে। কিন্তু এখন সামনে কঠিন প্রতিপক্ষ, কঠিন লড়াই এবং কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।

হ্যারি কেন রেকর্ড গড়েছেন, বেলিংহাম নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু বিশ্বকাপ জিততে হলে পুরো দলকেই একই ছন্দে থাকতে হবে।

এখন দেখার বিষয়, থ্রি লায়ন্স কি সত্যিই তাদের বহু বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে পারে, নাকি আবারও স্বপ্ন ভেঙে যাবে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে।