খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি ট্রাম্পের! বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি আরও জটিল করে আবারও ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি সরাসরি ইঙ্গিত...
Homeবিশ্ব সংবাদইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি ট্রাম্পের! বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ

ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি ট্রাম্পের! বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ

যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি আরও জটিল করে আবারও ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি সরাসরি ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে ইরানের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে।

শনিবার (২৮ জুন) প্রকাশিত ওই বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ইরান এখনো তাদের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে শিক্ষা নেয়নি। তার দাবি, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগার, ড্রোন গুদাম এবং উপকূলীয় রাডার সাইটে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা কেবল সামরিক পদক্ষেপ নয়; বরং এটি ইরানের প্রতি ওয়াশিংটনের কঠোর বার্তারও অংশ।

নিজের পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “খুব সম্ভবত তারা কখনোই শিক্ষা নেবে না।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, ইরানের বর্তমান নীতি ও কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র আর কূটনৈতিকভাবে আচরণ করতে পারবে না। তখন সামরিকভাবে অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে বাধ্য হবে।

এই মন্তব্যের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল তার সরাসরি হুমকি—যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র Iran আর অস্তিত্বশীল থাকবে না।

সম্প্রতি Strait of Hormuz এলাকায় একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার পর টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুটে অস্থিতিশীলতা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ বিশ্বের বড় একটি অংশের জ্বালানি সরবরাহ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হুমকির কারণে সেই যুদ্ধবিরতি এখন কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে।

শুক্রবারও ইরানের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়। ফলে দুই দেশের সম্পর্ক আবারও সংঘাতের দিকে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। বিশেষ করে ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

এদিকে ইরানও এই হামলার জবাব দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনা চলছে। যদি পাল্টাপাল্টি হামলা চলতেই থাকে, তাহলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য আবারও বড় যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বাড়লে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, এর প্রভাব পড়বে পুরো বিশ্বের জ্বালানি বাজার, শেয়ারবাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে। বিশেষ করে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত স্পর্শকাতর। বিশ্বনেতারা চাইছেন উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক সমাধান, তবে মাঠের বাস্তবতা বলছে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।