খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালদেশজুড়েরেকর্ড ভেঙ্গে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল প্রায় ১৬ কোটি টাকা

রেকর্ড ভেঙ্গে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল প্রায় ১৬ কোটি টাকা

১৩টি দান সিন্দুক খুলে পাওয়া গেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা। এর পাশাপাশি পাওয়া গেছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালঙ্কার

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিলেছে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ। ১৩টি দান সিন্দুক খুলে পাওয়া গেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা। এর পাশাপাশি পাওয়া গেছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালঙ্কারসহ নানা মূল্যবান সামগ্রী।

শনিবার (২৭ জুন) সকাল থেকে শুরু হওয়া দানবাক্সের টাকা গণনা শেষ হয় রাত সাড়ে ৮টার দিকে। দীর্ঘ সাড়ে ১৩ ঘণ্টা গণনা শেষে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদ এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সকাল ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত টানা গণনা শেষে দানবাক্স থেকে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পাওয়া গেছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার।

কিশোরগঞ্জের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত পাগলা মসজিদ দেশের অন্যতম পরিচিত ধর্মীয় স্থাপনা। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ এই মসজিদে দান করতে আসেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের বিশ্বাস ও ভালোবাসার কারণে এখানে দানের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে।

এর আগে কয়েক মাস পরপর দানবাক্স খোলার সময় বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওয়া গেছে। তবে এবার পাওয়া অর্থ আগের অনেক রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।

শনিবার সকাল ৭টার দিকে পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খোলা হয়। এ সময় কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দানবাক্স থেকে বের করা টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী গণনার জন্য নেওয়া হয়। পরে শুরু হয় দীর্ঘ সময়ের হিসাব-নিকাশ।

পাগলা মসজিদের দান করা অর্থ গণনার কাজে অংশ নেন প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ। এর মধ্যে ছিলেন আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া ও পাগলা মসজিদের এতিমখানাসহ দুটি মাদ্রাসার প্রায় সাড়ে তিন শ শিক্ষার্থী।

এ ছাড়া রূপালী ব্যাংকের প্রায় ১৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, মসজিদ কমিটির সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও গণনায় অংশ নেন।

এত বিপুল পরিমাণ অর্থ গণনা করতে পুরো দিন সময় লেগে যায়।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন জানান, মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের বিভিন্ন খরচ মেটানোর পর অবশিষ্ট অর্থ ব্যাংকে জমা রাখা হয়।

তিনি জানান, বর্তমানে পাগলা মসজিদের ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১১৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা জমা রয়েছে। এছাড়া অনলাইনের মাধ্যমে পাওয়া দানের পরিমাণ প্রায় ২৫ লাখ টাকা। এবার পাওয়া অর্থও নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকে জমা রাখা হবে।

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে শুধু টাকা নয়, নিয়মিত পাওয়া যায় বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি।

জেলা প্রশাসক জানান, দান করা স্বর্ণালঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা নিরাপদে জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে। পরে নিয়ম অনুযায়ী উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে এসব বিক্রি করা হবে এবং বিক্রির অর্থ মসজিদের ব্যাংক হিসাবে জমা হবে।

পাগলা মসজিদের দানের অর্থ শুধু মসজিদের উন্নয়ন কাজেই নয়, বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কাজেও ব্যবহার করা হয়।

মসজিদ কমিটির তথ্য অনুযায়ী, তহবিলের মুনাফা থেকে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি অসহায় মানুষ ও জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্যও আর্থিক সহায়তা করা হয়।

পাগলা মসজিদের দানবাক্স সাধারণত প্রতি ৪ থেকে ৬ মাস পরপর খোলা হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মানুষের দানের কারণে প্রতিবারই এখানে পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ অর্থ।

নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত এই মসজিদ এখন শুধু ধর্মীয় স্থান নয়, মানুষের আস্থা ও সহযোগিতার একটি বড় প্রতীক হয়ে উঠেছে।

এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ৩ মাস ২৭ দিন পর পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা হয়েছিল। তখন ৩৫ বস্তা টাকা থেকে পাওয়া গিয়েছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা।

সেই সময়ও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালঙ্কার ও হীরার সন্ধান পাওয়া যায়। তবে এবার প্রায় ১৬ কোটি টাকা পাওয়া নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।

পাগলা মসজিদের এই বিপুল দান আবারও প্রমাণ করেছে, দেশের মানুষের বিশ্বাস ও ভালোবাসার জায়গায় এই মসজিদের অবস্থান কতটা গভীর।