লিওনেল মেসি আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় বলা হয়। বিশ্বকাপের মঞ্চে জর্ডানের বিপক্ষে গোল করে তিনি গড়েছেন এক অনন্য রেকর্ড। টুর্নামেন্টে টানা সাত ম্যাচে গোল করার কৃতিত্ব এখন এককভাবে তার দখলে, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে আগে কোনো ফুটবলারের ছিল না।
এই গোলের মাধ্যমে শুধু নতুন রেকর্ডই নয়, গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।
কাতার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচ থেকে শুরু হওয়া মেসির গোল করার ধারাবাহিকতা এবারও অব্যাহত থাকল। জর্ডানের বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন তিনি।
এর ফলে ফ্রান্সের কিংবদন্তি জাস্ট ফন্টেইন এবং ব্রাজিলের জাইরজিনহোর টানা গোল করার রেকর্ড পেছনে ফেলেছেন মেসি। বিশ্বকাপে ধারাবাহিক গোলের নতুন মানদণ্ড এখন তার নামেই লেখা।
ম্যাচের শুরুতে বিশ্রামে রাখা হয়েছিল মেসিকে। প্রথম এক ঘণ্টা বেঞ্চেই ছিলেন তিনি। এ সময় আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও জর্ডান ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছিল।
শেষ আধাঘণ্টায় মাঠে নামার পর আক্রমণে নতুন গতি আসে আর্জেন্টিনার খেলায়। ম্যাচের শেষ দিকে বক্সের বাইরে ফাউল আদায় করে নিজেই ফ্রি-কিক নেন মেসি। নিখুঁত বাঁকানো শটে বল জালে জড়িয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
প্রথমার্ধেই আর্জেন্টিনা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। জিওভানি লো সেলসো দারুণ এক ফ্রি-কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন।
পরে ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পট-কিক থেকে কোনো ভুল করেননি লাউতারো মার্টিনেজ। ফলে বিরতির আগেই দুই গোলের সুবিধা পেয়ে যায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া জর্ডান সহজে হার মানেনি। দ্বিতীয়ার্ধে মুসা আল তামারি গোল করে ব্যবধান কমান এবং ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন।
তাদের আক্রমণভাগ কয়েকটি ভালো সুযোগও তৈরি করেছিল। তবে অভিজ্ঞতার দিক থেকে এগিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সক্ষম হয়।
মেসির গোলের সময় জর্ডানের গোলরক্ষকের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফ্রি-কিক নেওয়ার সময় দেয়াল সাজানো এবং নিজের অবস্থান—দুই ক্ষেত্রেই ভুল ছিল বলে বিশ্লেষকদের মত।
মেসির শট ছিল নিখুঁত, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশ্বকাপে নিজের আরেকটি স্মরণীয় গোল যোগ করেন তিনি।
এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়ালেন মেসি। ফলে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট জয়ের সম্ভাবনাও বেড়ে গেছে।
নকআউট পর্বে ধারাবাহিকভাবে গোল করে যাওয়ায় প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগের জন্য তিনি এখনও সবচেয়ে বড় হুমকি।
বিশ্বকাপে এটি মেসির ষষ্ঠ অংশগ্রহণ, যা নিজেই একটি বিরল কীর্তি। এবার টানা সাত ম্যাচে গোল করে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়ার পর সামনে আরও একটি সুযোগ অপেক্ষা করছে।
পরবর্তী ম্যাচেও যদি গোল করতে পারেন, তাহলে নিজের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করবেন আর্জেন্টিনার এই মহাতারকা।
বয়স বাড়লেও লিওনেল মেসির পারফরম্যান্সে তার কোনো ছাপ পড়েনি। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে এগিয়ে নেওয়া, রেকর্ড ভাঙা এবং ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ—সব ক্ষেত্রেই তিনি এখনও সমান কার্যকর। জর্ডানের বিপক্ষে তার দুর্দান্ত ফ্রি-কিক গোল শুধু আর্জেন্টিনার জয়ই নিশ্চিত করেনি, বিশ্বকাপ ইতিহাসেও যুক্ত করেছে নতুন একটি অধ্যায়।


