বলিউডে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। তবে কখনও কখনও পুরনো কোনো ঘটনা নতুন করে আলোচনায় উঠে এসে আবারও শোরগোল ফেলে দেয়। সম্প্রতি অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত এবং জনপ্রিয় কমেডিয়ান-অভিনেতা বীর দাসকে ঘিরে এমনই একটি পুরনো বিতর্ক নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদন জগতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
অভিযোগ, একটি সিনেমার ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের শুটিং চলাকালে ‘কাট’ বলা হলেও কঙ্গনা নাকি অভিনয়ের আবেগে এতটাই ডুবে গিয়েছিলেন যে সহ-অভিনেতা বীর দাসের ঠোঁটে কামড় লেগে রক্ত বের হয়ে যায়।
বর্তমানে কঙ্গনা রানাউত এবং বীর দাসকে সাধারণত ভিন্ন মতাদর্শের দুই তারকা হিসেবেই দেখা হয়। সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতে বীর দাসের মন্তব্য বহুবার আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় সমাজ, রাজনীতি, ধর্ম এবং নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর বক্তব্য দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল।
একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে বীর দাস বলেছিলেন, তিনি এমন এক দেশের নাগরিক যেখানে দিনে নারীদের পূজা করা হয়, আর রাতে তাদের ওপর নৃশংস নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এই মন্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন কঙ্গনা রানাউত। তিনি প্রকাশ্যে বীরের সমালোচনা করেন এবং তাঁর বক্তব্যকে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার প্রচেষ্টা বলে উল্লেখ করেন।
তবে অনেকেই হয়তো জানেন না, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও প্রকাশ্য সমালোচনার বহু আগে এই দুই তারকা একসঙ্গে বড় পর্দায় কাজ করেছিলেন।
২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া আলোচিত বলিউড চলচ্চিত্র ‘রিভলভার রানি’-তে কঙ্গনা রানাউতের বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন বীর দাস। সিনেমাটিতে তাদের মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ চুম্বনের দৃশ্য ছিল, যা সে সময় দর্শকদের নজর কেড়েছিল।
সিনেমা মুক্তির কয়েক বছর পর একজন খ্যাতনামা বিনোদন সাংবাদিক একটি বিস্ফোরক দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই চুম্বনের দৃশ্য ধারণের সময় পরিচালক ‘কাট’ বলার পরও কঙ্গনা নাকি দৃশ্য থেকে বেরিয়ে আসেননি। বরং তিনি অভিনয়ের আবেগে এতটাই নিমগ্ন ছিলেন যে বীর দাসের ঠোঁটে কামড় লেগে যায় এবং সেখানে রক্তক্ষরণ হয়।
এই দাবি প্রকাশ্যে আসার পর তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং বিনোদন জগতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।
সম্প্রতি একটি জনপ্রিয় পডকাস্টে অংশ নিয়ে সেই সাংবাদিক আবারও ঘটনাটির প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি দাবি করেন, পরবর্তীতে যখন বীর দাস তাঁর অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন, তখন অভিনেতার মধ্যে সেই ঘটনার আতঙ্কের ছাপ দেখতে পেয়েছিলেন।
সাংবাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী, বীর দাসকে দেখে মনে হচ্ছিল তিনি ঘটনাটি স্মরণ করে অস্বস্তিতে ভুগছিলেন। তাঁর আচরণে এমন এক ধরনের অপ্রস্তুত ভাব ছিল, যা ওই ঘটনার স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে মনে হয়েছে।
যদিও এসব মন্তব্য সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে এবং ঘটনার সত্যতা নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ সামনে আসেনি।
এই বিতর্ক নতুন নয়। ২০২৩ সালেও বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হলে কঙ্গনা রানাউত নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরির মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন।
তবে তিনি সরাসরি অভিযোগের জবাব না দিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে বিষয়টিকে উড়িয়ে দেন। নিজের পোস্টে তিনি অভিনেতা Hrithik Roshan-এর প্রসঙ্গ টেনে লেখেন, “হৃতিক রোশনের পর এবার নাকি বেচারা বীর দাসেরও সম্মান লুটে নিয়েছি! এটা আবার কবে ঘটল?”
কঙ্গনার এই মন্তব্য অনেকের কাছে রসিকতা হিসেবে মনে হলেও, বিতর্ককে পুরোপুরি থামাতে পারেনি। বরং নতুন করে সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
অন্যদিকে বীর দাস বর্তমানে তাঁর কমেডি, অভিনয় এবং ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি অন্য একটি কারণে সংবাদ শিরোনামে এসেছিলেন। জানা যায়, একটি অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম থেকে অ্যাপল ওয়াচ কিনতে গিয়ে তিনি প্রতারণার শিকার হন।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরে তিনি ভোক্তা নিরাপত্তা এবং অনলাইন কেনাকাটার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর সেই পোস্টও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এদিকে কঙ্গনা রানাউতের সাম্প্রতিক চলচ্চিত্র ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ মুক্তির পর প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি বলে চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন। সিনেমাটি নিয়ে শুরুতে ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও বক্স অফিসে সেই আগ্রহ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
তবুও কঙ্গনা তাঁর অভিনয়, রাজনৈতিক অবস্থান এবং স্পষ্টভাষী ব্যক্তিত্বের কারণে নিয়মিতভাবেই আলোচনায় থাকেন। বিতর্ক যেন তাঁর ক্যারিয়ারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
বিনোদন জগতে পুরনো ঘটনা নতুন করে ভাইরাল হওয়ার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বড় ভূমিকা পালন করে। কঙ্গনা রানাউত ও বীর দাসকে ঘিরে এই বিতর্কও তার ব্যতিক্রম নয়। একটি পুরনো সিনেমার শুটিং সেটের ঘটনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ায় আবারও কৌতূহলী হয়ে উঠেছেন ভক্তরা।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন দাবি ও পাল্টা দাবি থাকলেও এর সত্যতা সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিষয়টি এখনও মূলত গুঞ্জন এবং ব্যক্তিগত বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
কঙ্গনা রানাউত ও বীর দাস দুজনেই নিজেদের ক্ষেত্রের পরিচিত মুখ। একসময় একই সিনেমায় কাজ করা এই দুই তারকাকে ঘিরে শুটিং সেটের একটি পুরনো ঘটনা আজও আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে।
‘রিভলভার রানি’-র সেই চুম্বন দৃশ্য সত্যিই কি এতটা নাটকীয় ছিল, নাকি সময়ের সঙ্গে গল্পটি আরও রঙিন হয়ে উঠেছে তার সুনির্দিষ্ট উত্তর এখনও অজানা। তবে বলিউডে বিতর্কের ইতিহাসে এই ঘটনাটি যে একটি বহুল আলোচিত অধ্যায় হয়ে থাকবে, তা বলাই যায়।


