খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রীর সমমর্যাদা

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রীর সমমর্যাদা দিয়েছে ভারত সরকার। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। বিশেষ করে বাংলাদেশ-ভারত...
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালজাতীয়অনলাইন জুয়া এখন ফৌজদারি অপরাধ: অর্থমন্ত্রী  

অনলাইন জুয়া এখন ফৌজদারি অপরাধ: অর্থমন্ত্রী  

চলতি বছরের ১০ এপ্রিল জারি করা **সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬** এর ২০ ধারায় অনলাইন জুয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ডিজিটাল মাধ্যমে বাড়তে থাকা অনলাইন জুয়া ও এর সঙ্গে জড়িত আর্থিক অপরাধ ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। নতুন **সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬** এর আওতায় অনলাইন জুয়াকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে অনলাইন জুয়া পরিচালনা, অংশগ্রহণ, প্রচার কিংবা এ ধরনের কার্যক্রমে সহায়তা করলেও আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ডিজিটাল বেটিং ও অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সংসদে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এনসিপি দলীয় সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনের উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ১০ এপ্রিল জারি করা **সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬** এর ২০ ধারায় অনলাইন জুয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পরিচালিত জুয়া কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার জন্য কোনো ওয়েবসাইট, পোর্টাল, অ্যাপ বা প্রযুক্তিগত ডিভাইস তৈরি কিংবা পরিচালনা করা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। শুধু পরিচালনাই নয়, অনলাইন জুয়ায় অংশ নেওয়া, অন্যকে উৎসাহ দেওয়া বা এই ধরনের কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতেও আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

বর্তমানে অনেক অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্ম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারণা চালায়। নতুন আইনে এসব প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডকেও অপরাধ হিসেবে ধরা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার, বিপণন, সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জুয়ার কার্যক্রমকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করলেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা একই সঙ্গে উভয় শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

অনলাইন জুয়ার আর্থিক লেনদেন বন্ধে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৫৫ হাজার মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাবের লেনদেন স্থগিত বা জব্দ করা হয়েছে।

এসব হিসাবের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।

সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করে বিএফআইইউ। পরে ২০২৬ সালের মে মাসে প্রতিবেদনটি অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর কাছে পাঠানো হয়।

অর্থমন্ত্রী জানান, এরই মধ্যে এ ঘটনায় সিআইডি একটি মামলা করেছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করার কাজ চলছে।

অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে অবৈধ অর্থ প্রবাহ বন্ধ করতে বিএফআইইউ নিয়মিতভাবে আর্থিক লেনদেন পর্যবেক্ষণ করছে। সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আরও গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হওয়া লেনদেনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫ সালের ২৮ মে দেশের সব মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ নির্দেশনা দেয়।

নির্দেশনায় বলা হয়, এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের মার্চেন্ট ও গ্রাহকদের লেনদেন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনলাইন জুয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাকে নিরাপদ রাখা এবং অবৈধ অর্থ লেনদেন নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

শুধু আইন প্রয়োগ নয়, অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কেও সাধারণ মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা নিয়মিত প্রচারণার মাধ্যমে মানুষকে সতর্ক করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন জুয়া শুধু আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়, এর মাধ্যমে প্রতারণা, অবৈধ অর্থ পাচার ও সাইবার অপরাধও বাড়তে পারে। তাই প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি।

সরকারের নতুন আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ এবং ডিজিটাল আর্থিক খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।