খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

ঢাকায় ভারতের  হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রীর সমমর্যাদা

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রীর সমমর্যাদা দিয়েছে ভারত সরকার। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। বিশেষ করে বাংলাদেশ-ভারত...
Homeবিশ্ব সংবাদইন্ডিয়া নিউজঢাকায় ভারতের  হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রীর সমমর্যাদা

ঢাকায় ভারতের  হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রীর সমমর্যাদা

টেবিল অফ প্রেসিডেন্স আনুষ্ঠানিকভাবে সংশোধন ছাড়াই দীনেশ ত্রিবেদীকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একজন মন্ত্রীর সমতুল্য মর্যাদা প্রদান

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রীর সমমর্যাদা দিয়েছে ভারত সরকার। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। বিশেষ করে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমন পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বুধবার (২৪ জুন) ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা এক অফিস স্মারকে এ তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়েছে, দীনেশ ত্রিবেদীকে দেওয়া এই মর্যাদা মূলত আনুষ্ঠানিক ও প্রটোকল সংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য কার্যকর হবে।

ভারতের সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের অগ্রাধিকার সারণী বা টেবিল অফ প্রেসিডেন্স আনুষ্ঠানিকভাবে সংশোধন ছাড়াই দীনেশ ত্রিবেদীকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একজন মন্ত্রীর সমতুল্য মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, তিনি এখন সরকারি অনুষ্ঠানে একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মতোই প্রটোকল সুবিধা পাবেন।

তবে এটি স্থায়ী কোনো সাংবিধানিক পরিবর্তন নয়। শুধুমাত্র নির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক কার্যাবলীর ক্ষেত্রেই এই মর্যাদা প্রযোজ্য থাকবে।

কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত খুব একটা দেখা যায় না। সাধারণত একজন হাইকমিশনারকে নির্দিষ্ট কূটনৈতিক মর্যাদা দেওয়া হয়। কিন্তু দীনেশ ত্রিবেদীর ক্ষেত্রে মন্ত্রীর সমমর্যাদা দেওয়া ভারতের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ বার্তা বলেই ধরা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরও গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবেও এই সিদ্ধান্তকে দেখা যেতে পারে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, নিরাপত্তা, সীমান্ত ও আঞ্চলিক রাজনীতির নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় রাজনীতিতে সক্রিয়। রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি দুইবার ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছেন।

তার অভিজ্ঞতা শুধু রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়; প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ফলে বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে তার নিয়োগকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য গত ৫ জুন বাংলাদেশে পৌঁছান দীনেশ ত্রিবেদী। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রস্তুতি শুরু করেন। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তার পরিচয়পত্র পেশ করবেন।

এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন।

দীনেশ ত্রিবেদীর সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো তিনি বাংলা ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলতে পারেন। শুধু ভাষাই নয়, দুই বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি সম্পর্কেও তার রয়েছে গভীর জ্ঞান।

এটি বাংলাদেশে তার কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। ভাষা ও সংস্কৃতির এই সংযোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করতে সহায়তা করতে পারে।

রাজনীতির পাশাপাশি দীনেশ ত্রিবেদীর আরেকটি পরিচয় আছে—তিনি একজন দক্ষ সেতারবাদক। সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলেও তার যথেষ্ট পরিচিতি রয়েছে। এই বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংস্কৃতির প্রতি তার আগ্রহ বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরিতেও সহায়ক হতে পারে।

দীনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া নিছক প্রটোকল সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি নতুন বার্তা বহন করছে। তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া এবং বাংলা ভাষায় দক্ষতা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে।

এখন দেখার বিষয়, তার নেতৃত্বে ঢাকায় ভারতের কূটনৈতিক কার্যক্রম কতটা নতুন গতি পায় এবং দুই দেশের সম্পর্ক কতটা আরও মজবুত হয়।