খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

খামেনির দাফন ও শেষ বিদায়: তেহরানে তিন দিনের ছুটি

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়কে কেন্দ্র করে রাজধানী তেহরানে তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তার জানাজা, শ্রদ্ধা নিবেদন...
Homeবিশ্ব সংবাদখামেনির দাফন ও শেষ বিদায়: তেহরানে তিন দিনের ছুটি

খামেনির দাফন ও শেষ বিদায়: তেহরানে তিন দিনের ছুটি

কুম ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র হওয়ায় এই আয়োজনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়কে কেন্দ্র করে রাজধানী তেহরানে তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তার জানাজা, শ্রদ্ধা নিবেদন ও দাফন অনুষ্ঠান ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মাধ্যমে এই ছুটির ঘোষণা দেওয়া হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও দাফন কার্যক্রম কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে। আয়োজনে ধর্মীয় রীতি, রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৪ ও ৫ জুলাই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে খামেনির মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। সেখানে বিশেষ দোয়া ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করা হবে। এরপর ৬ জুলাই রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত হবে তার আনুষ্ঠানিক জানাজা ও শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠান।

এই কর্মসূচিকে ঘিরে তেহরান প্রদেশে টানা তিন দিনের সরকারি ছুটি কার্যকর থাকবে। দেশটির প্রশাসন মনে করছে, বিপুলসংখ্যক মানুষ এই আয়োজনে অংশ নিতে পারেন। তাই জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তেহরানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৭ জুলাই পবিত্র নগরী কুমে খামেনির স্মরণে আরেকটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। কুম ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র হওয়ায় এই আয়োজনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এরপর ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পবিত্র শহর মাশহাদে তাকে চূড়ান্তভাবে দাফন করা হবে। মাশহাদে দাফনের মধ্য দিয়ে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জীবনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি প্রায় ৩৬ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দেশটির রাজনীতি, পররাষ্ট্রনীতি ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তার নেতৃত্বের সময় ইরান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও তার প্রভাব ছিল ব্যাপক।

নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন কয়েক দফা পিছিয়ে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বড় ধরনের জনসমাগমের সম্ভাবনা থাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ইরানের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ তেহরানসহ নির্ধারিত স্থানগুলোতে উপস্থিত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে।

খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তার মৃত্যুর পর দেশটির নেতৃত্ব ও ক্ষমতার কাঠামোয় পরিবর্তনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিদায় অনুষ্ঠান ইরানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন, নেতৃত্বের রূপান্তর এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রীয় নীতির দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠতে পারে।

খামেনির শেষ বিদায়ে লাখো মানুষের উপস্থিতির সম্ভাবনা থাকায় ইরানজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে এবং পুরো আয়োজন নির্বিঘ্ন রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ইরান সরকার এই অনুষ্ঠানকে মর্যাদাপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে চায়। দেশটির মানুষের অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক মহলের নজরের কারণে খামেনির শেষ বিদায় একটি বড় রাষ্ট্রীয় ঘটনায় পরিণত হয়েছে।