খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

খামেনির দাফন ও শেষ বিদায়: তেহরানে তিন দিনের ছুটি

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়কে কেন্দ্র করে রাজধানী তেহরানে তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তার জানাজা, শ্রদ্ধা নিবেদন...
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালদেশজুড়েধামরাইয়ে উচ্ছেদ অভিযানে হকারদের হামলা, আহত ২

ধামরাইয়ে উচ্ছেদ অভিযানে হকারদের হামলা, আহত ২

অভিযান চালিয়ে কয়েকটি দোকান উচ্ছেদের পর পরিস্থিতি হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষুব্ধ হকারদের একটি দল বুলডোজারের চালক ও সহকারীর ওপর হামলা চালায়।

ঢাকার Dhaka জেলার Dhamrai উপজেলার ঢুলিভিটা এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযানের সময় হকারদের একাংশ প্রশাসনের ওপর হামলা চালায়। এতে বুলডোজারের চালক ও তার সহকারী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশের অবৈধ দখল উচ্ছেদের সময় এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত ও সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছিল অসংখ্য অস্থায়ী দোকান। এসব অবৈধ স্থাপনা সরাতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করে।

প্রায় এক ঘণ্টা ধরে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি দোকান উচ্ছেদের পর পরিস্থিতি হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষুব্ধ হকারদের একটি দল বুলডোজারের চালক ও সহকারীর ওপর হামলা চালায়। ইট-পাটকেল নিক্ষেপে গুরুতর আহত হন তারা।

আহত দুইজন হলেন বুলডোজার চালক মনির হোসেন এবং তার সহকারী আব্বাস হোসেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর কয়েকজন হকার দাবি করেন, প্রশাসন তাদের আগে থেকে কোনো নোটিশ দেয়নি। হঠাৎ করেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয় এবং তাদের দোকানপাট ভেঙে ফেলা হয়।

হকারদের ভাষ্য, জীবিকার একমাত্র অবলম্বন এসব ছোট দোকান। আগাম সতর্কতা ছাড়া এমন অভিযান তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলেছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নয়ারহাট শাখার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নূরে আলম সিদ্দিক বলেন, এটি নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ। বছরে অন্তত একবার এই ধরনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়।

তার মতে, সরকারি সড়কের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা তৈরি হওয়ার কারণে যানজট বাড়ে, পথচারীদের চলাচল ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ওই এলাকায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

নূরে আলম সিদ্দিক বলেন, অভিযান চলাকালে কয়েকজন হকার আচমকা হামলা চালান। তাদের আচরণ অনেকটা সংঘবদ্ধ জনতার মতো ছিল। এতে উচ্ছেদ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়।

তিনি জানান, হামলার পেছনে কারও পরিকল্পনা বা নির্দেশনা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ধামরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিদওয়ান আহমেদ রাফি বলেন, প্রায় দেড় ঘণ্টা শান্তিপূর্ণভাবে অভিযান পরিচালিত হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ কিছু ব্যক্তি হামলা চালিয়ে সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করেন।

তিনি বলেন, কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের শনাক্ত করা হবে। প্রয়োজনে মামলা দায়ের করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সরকারি জমি ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ হবে না। ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় যেসব অবৈধ স্থাপনা রয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধেও পর্যায়ক্রমে অভিযান চালানো হবে।

স্থানীয়দের মতে, একদিকে যেমন অবৈধ দখল সরিয়ে জনসাধারণের চলাচল নিশ্চিত করা জরুরি, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ধামরাইয়ের মতো ব্যস্ত এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখা শুধু যান চলাচলের জন্য নয়, পথচারীদের নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই ধরনের অভিযান ঘিরে বারবার সংঘর্ষের ঘটনা প্রমাণ করে, প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।

এই ঘটনার পর এখন সবার নজর তদন্তের ফলাফল এবং পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।