খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

বেনাপোল স্থলবন্দরে কাগজ পত্র বিহীন খৈলর চালান সহ ট্রাক জব্দ

বেনাপোল স্থলবন্দরে আবারও পণ্য চালানে অনিয়মের অভিযোগে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। কাগজপত্রবিহীন বা ঘোষণার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ পণ্য পরিবহনের সন্দেহে একটি ভারতীয় ট্রাক...
Homeবিশ্ব সংবাদপ্যাসিভ ইনকামে বদলে যাচ্ছে নতুন আমেরিকান স্বপ্ন

প্যাসিভ ইনকামে বদলে যাচ্ছে নতুন আমেরিকান স্বপ্ন

মাসে দুই ঘণ্টারও কম সময় দিতে হয়। তবুও বছরে তিনি আয় করছেন প্রায় ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ১৫ হাজার ডলার।

একসময় আমেরিকান স্বপ্ন মানেই ছিল কঠোর পরিশ্রম, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা আর ধাপে ধাপে সফলতার সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠা। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন সেই চিরাচরিত ধারণার জায়গা দখল করছে নতুন এক বাস্তবতা—কাজ না করেও আয় করার স্বপ্ন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে ‘প্যাসিভ ইনকাম’ এখন কেবল একটি ট্রেন্ড নয়, বরং আর্থিক স্বাধীনতার নতুন পথ।

অফিসের নির্দিষ্ট সময়, প্রতিদিনের যানজট আর ক্লান্তিকর রুটিন কখনোই ভালো লাগত না গ্রেগ কিওগের। টেক্সাসের অস্টিনের বাসিন্দা এই মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার করপোরেট জীবনের ৯টা-৫টার চাকরির বাইরে নিজের জন্য অন্য পথ খুঁজতে শুরু করেন।

সেই খোঁজ তাকে নিয়ে যায় প্যাসিভ ইনকামের জগতে। একদিন এক কুকুরের মালিকের সঙ্গে আলাপচারিতার মাধ্যমে তার মাথায় আসে একটি নতুন আইডিয়া। তিনি বড় আকারের একটি লিন্ট রোলার ডিজাইন করেন এবং সেটি অ্যামাজনে বিক্রি শুরু করেন।

সাত বছর পর সেই ছোট উদ্যোগই এখন তার জন্য বড় আয়ের উৎস। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ব্যবসায় এখন তাকে মাসে দুই ঘণ্টারও কম সময় দিতে হয়। তবুও বছরে তিনি আয় করছেন প্রায় ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ১৫ হাজার ডলার।

প্যাসিভ ইনকাম হলো এমন একটি আয়ের উৎস, যেখানে নিয়মিত সক্রিয়ভাবে কাজ না করেও অর্থ উপার্জন করা যায়। অর্থাৎ শুরুতে সময়, শ্রম বা অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়, কিন্তু পরে সেটি নিজে থেকেই আয় তৈরি করতে থাকে।

বর্তমানে অনেকেই বিভিন্নভাবে প্যাসিভ ইনকাম গড়ে তুলছেন। যেমন—

• অ্যামাজনে পণ্য বিক্রি

• অনলাইন কোর্স তৈরি

• ব্লগিং ও ইউটিউব

• বাড়ি ভাড়া দেওয়া

• গাড়ি ভাড়া দেওয়া

• শেয়ারবাজার বা ডিভিডেন্ড ইনভেস্টমেন্ট

এই ধরনের আয়ের উৎস মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে এবং চাকরির ওপর নির্ভরতা কমাচ্ছে।

একসময় মানুষ বিশ্বাস করত, কঠোর পরিশ্রমই সফলতার একমাত্র পথ। কিন্তু নতুন প্রজন্ম সেই ধারণাকে প্রশ্ন করছে।

মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে কর্মক্ষেত্রে অসন্তুষ্টি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং আর্থিক অনিশ্চয়তা।

নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের এক জরিপে দেখা গেছে, ২০১৪ সালের পর কর্মক্ষেত্রে বেতন ও পদোন্নতি নিয়ে কর্মীদের সন্তুষ্টির হার এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এছাড়া বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম ডাবের জরিপে উঠে এসেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ জেন-জি মনে করেন, শুধুমাত্র পূর্ণকালীন চাকরি দিয়ে তাদের আর্থিক লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়।

এই বাস্তবতা তরুণদের বিকল্প আয়ের উৎস খুঁজতে বাধ্য করছে।বর্তমানে তরুণদের বড় একটি অংশ মূল চাকরির পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের পথ তৈরি করছে। এটি এখন ‘সাইড হাসল’ নামে পরিচিত।

ব্যাংকরেট এবং ক্যাশ অ্যাপের জরিপ বলছে, অনেক তরুণ তাদের মূল আয়ের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের জন্য নতুন সুযোগ খুঁজছেন।

কেউ নিজের বাড়ি এয়ারবিএনবিতে ভাড়া দিচ্ছেন, কেউ আবার টুরো প্ল্যাটফর্মে নিজের গাড়ি ভাড়া দিয়ে আয় করছেন।

এই মডেলগুলো শুধু অতিরিক্ত আয় নয়, বরং ভবিষ্যতের আর্থিক স্বাধীনতার ভিত্তি তৈরি করছে।

অনেকেই মনে করেন প্যাসিভ ইনকাম মানেই কাজ না করে সহজে টাকা আয়। বাস্তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুরুতে সময়, পরিকল্পনা এবং ধৈর্যের বড় প্রয়োজন হয়। একটি সফল প্যাসিভ ইনকাম তৈরি করতে আইডিয়া নির্বাচন, বাজার বিশ্লেষণ এবং সঠিক বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রেগ কিওগের গল্পও সেটাই বলে। তিনি প্রথম দিন থেকেই সফল হননি। বরং ধারাবাহিক চেষ্টা আর পরিকল্পনার ফলেই আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছেন।

বিশ্ব অর্থনীতি দ্রুত বদলাচ্ছে। প্রযুক্তির উন্নয়ন, রিমোট ওয়ার্ক এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তার মানুষের আয়ের ধরনও পাল্টে দিচ্ছে।

আগামী দিনে শুধুমাত্র একটি চাকরির ওপর নির্ভর করে আর্থিক নিরাপত্তা ধরে রাখা আরও কঠিন হতে পারে। তাই অনেকেই এখন থেকেই প্যাসিভ ইনকামের দিকে ঝুঁকছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে আর্থিক সফলতার অন্যতম চাবিকাঠি হবে বহুমুখী আয়ের উৎস তৈরি করা।