খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

ঢাকায় ভারতের  হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রীর সমমর্যাদা

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রীর সমমর্যাদা দিয়েছে ভারত সরকার। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। বিশেষ করে বাংলাদেশ-ভারত...
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালজাতীয়চীনে বিনিয়োগ কার্যালয় খুলছে বাংলাদেশ:নতুন অর্থনৈতিক যুগের সূচনা

চীনে বিনিয়োগ কার্যালয় খুলছে বাংলাদেশ:নতুন অর্থনৈতিক যুগের সূচনা

এখন সময় এসেছে এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচনের।

চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় খোলার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই পদক্ষেপকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতিতে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে চীনা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ আরও সহজ হবে এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগের পথ হবে দ্রুত ও কার্যকর।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেইজিংয়ে আয়োজিত বাংলাদেশ বিনিয়োগ ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, খুব শিগগিরই চীনে বাংলাদেশের প্রথম ‘বিনিয়োগ কার্যালয়’ চালু হবে। এর মূল লক্ষ্য হলো চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আসার আগেই প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া এবং বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক বহু দশকের। এই সম্পর্ক আস্থা, পারস্পরিক সম্মান এবং বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। সময়ের সঙ্গে এই সম্পর্ক কূটনীতি থেকে উন্নয়ন, উন্নয়ন থেকে বাণিজ্য এবং এখন শিল্প অংশীদারিত্বের দিকে আরও গভীরভাবে বিস্তৃত হয়েছে।

তার ভাষায়, এখন সময় এসেছে এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচনের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি বড় অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশ এখন এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বাংলাদেশ এখন ব্যবসার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার ইতোমধ্যে ১৮০ দিনের একটি কঠোর কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো হবে এবং নতুন ব্যবসার লাইসেন্স মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হবে।

এই উদ্যোগ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ইতোমধ্যে দ্রুত এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি মোংলায় দ্বিতীয় একটি জোন তৈরির কাজও চলছে।

এই অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগকারীরা পাবেন—

• উন্নত লজিস্টিকস সুবিধা

• বন্দর সংযোগ

• দক্ষ জনবল

• নিরবচ্ছিন্ন সেবা

• শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থা

• দীর্ঘমেয়াদি শিল্প ইকোসিস্টেম

এগুলো চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশকে আরও আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করবে।

প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, উন্নত বস্ত্রশিল্প এবং ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে সরকার বাড়তি নীতিগত সুবিধা ও প্রণোদনা দিচ্ছে।

এই খাতগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা পাবেন—

• বৈষম্যহীন ব্যবসায়িক পরিবেশ

• মূলধন ও লভ্যাংশ সহজে ফেরত নেওয়ার সুযোগ

• শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা

• দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ নিরাপত্তা

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই খাতগুলো আগামী দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

বক্তব্যের শেষ অংশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনা বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেন, বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ গন্তব্য। তিনি চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের পরবর্তী অর্থনৈতিক বিস্ময়ের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।

তার মতে, এখনই সঠিক সময় বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় যুক্ত হওয়ার।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় চালু হলে কয়েকটি বড় সুবিধা পাওয়া যাবে—

প্রথমত, চীনা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়বে।

দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগ প্রক্রিয়ার সময় কমবে।

তৃতীয়ত, বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়তে পারে।

চতুর্থত, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে নতুন গতি আসবে।

সব মিলিয়ে, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক বিনিয়োগের নতুন কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে। আর চীনে প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় খোলার এই ঘোষণা সেই লক্ষ্য পূরণের দিকেই বড় একটি পদক্ষেপ।