খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

স্কটল্যান্ডকে ৩-০ উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল

মাঠে নামার আগেই উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। আর ম্যাচ শুরুর পর সেই উত্তেজনাকে বাস্তবে রূপ দিল ব্রাজিল। যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে...
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালজাতীয়সংবিধান সংশোধনে বিএনপি:জামায়াতের সামনে কী পথ খোলা?

সংবিধান সংশোধনে বিএনপি:জামায়াতের সামনে কী পথ খোলা?

বিএনপির যুক্তি পরিষ্কার—যেহেতু দেশে কোনও বিপ্লবী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তাই বিদ্যমান সংবিধান বাতিল করার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী—দুই পক্ষই রাষ্ট্র কাঠামোতে পরিবর্তনের কথা বললেও পদ্ধতি ও বাস্তবায়ন নিয়ে তাদের অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। ফলে রাজনৈতিক সমঝোতার বদলে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।

রাষ্ট্রপতির সংস্কার আদেশ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি। ক্ষমতাসীন বিএনপি মনে করছে, বিদ্যমান সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা সম্ভব। অন্যদিকে জামায়াত বলছে, শুধু সংশোধন নয়, রাষ্ট্র কাঠামোর পূর্ণাঙ্গ সংস্কারই এখন সময়ের দাবি।

সরকারের মেয়াদের চার মাস পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে সুস্পষ্ট রূপরেখা না আসায় রাজনৈতিক মহলে এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে সরকার সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়ে ১৭ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বিরোধী দলের জন্য পাঁচজন সংসদ সদস্যের নাম প্রস্তাবের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত জামায়াত এ প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি।

জামায়াতের দাবি, সংবিধান সংশোধনের সীমিত কাঠামোর মধ্যে থেকে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। দলটির নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তারা সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারকে রাজনৈতিক চাপের মধ্যে রেখেই তাদের দাবি আদায় করতে চান।

গণভোটের রায় অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিন সংসদ সদস্যদের দুটি শপথ নেওয়ার কথা ছিল—একটি সংসদ সদস্য হিসেবে এবং অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে।

এই নিয়ম অনুসরণ করে জামায়াত ও তাদের জোটসঙ্গীরা দুটি শপথ নিলেও বিএনপির সদস্যরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তারা শপথ নেননি। এখান থেকেই মূল বিরোধের সূত্রপাত।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বিদ্যমান সংবিধানে দ্বিতীয় শপথের কোনও বিধান না থাকায় তারা সেটি গ্রহণ করেননি।

বিএনপির যুক্তি পরিষ্কার—যেহেতু দেশে কোনও বিপ্লবী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তাই বিদ্যমান সংবিধান বাতিল করার সুযোগ নেই। বরং যে দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তা সংশোধনের মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে।

দলের সিনিয়র নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, জনগণ তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়েছে, তাই জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় সংবিধান সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বিরোধী দলকে আরও বাস্তবভিত্তিক পর্যালোচনার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে জামায়াতের অবস্থান আরও কঠোর। দলটি মনে করে, বর্তমান সংবিধানের কাঠামোতে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যা শুধু সংশোধনের মাধ্যমে সমাধান সম্ভব নয়।

দলটির প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে—

এক ব্যক্তি দুইবারের বেশি সরকার প্রধান হতে না পারা,

দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা,

স্বাধীন হিসাব নিরীক্ষা কাঠামো গঠন,

এবং বিচার বিভাগীয় সচিবালয়ের পূর্ণ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, সরকার গণভোটের রায় অমান্য করেছে এবং সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে।

সরকারের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সাড়া না পাওয়ায় জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ইতোমধ্যে রাজপথে কর্মসূচি শুরু করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন সামনে আরও বড় আকার নিতে পারে।

এতে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ, একদিকে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সংশোধন এগোচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধীরা মাঠে আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছে।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বামপন্থি দলগুলো বলছে, শুধু সংসদ সদস্যদের নিয়ে সংবিধান সংশোধন বা সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ মনে করেন, রাষ্ট্র সংস্কারের মতো বড় সিদ্ধান্তে নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী এবং বিশেষজ্ঞদেরও অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

একই ধরনের মত দিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। দলটির নেতা আব্দুল্লাহ আল ক্বাফী রতন বলেন, সংবিধানের দুর্বলতা চিহ্নিত করে সংশোধন করা যেতে পারে, তবে পুরো সংবিধান বাতিল করার প্রশ্নই আসে না।

বর্তমান বাস্তবতায় স্পষ্ট হয়ে উঠছে, সংবিধান সংশোধন বনাম পূর্ণ সংস্কার—এই বিতর্ক সহজে মিটছে না। বিএনপি এবং জামায়াত উভয়েই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় রাজনৈতিক সমঝোতার পথ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া বড় ধরনের সাংবিধানিক পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে আরও সংকট তৈরি করতে পারে। তাই এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো—সংলাপ, সমঝোতা এবং সব পক্ষকে নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য পথ বের করা।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে এই সাংবিধানিক বিতর্কের সমাধান কীভাবে হয় তার ওপর। কারণ, এটি শুধু একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণের প্রশ্ন।

সূত্র:বাংলা ট্রিবিউন