খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালজুড বেলিংহ্যাম কেন লাল কার্ড পেলেন না? ‘দুই স্তরের রেফারিং’ বিতর্কে ফুটবল...

জুড বেলিংহ্যাম কেন লাল কার্ড পেলেন না? ‘দুই স্তরের রেফারিং’ বিতর্কে ফুটবল বিশ্ব উত্তাল!

ফুটবলের নিয়ম প্রণয়নকারী সংস্থা IFAB সম্প্রতি একটি নতুন নির্দেশনা চালু করেছে। অনেক খেলোয়াড় মাঠে নিজেদের কথোপকথন গোপন রাখতে মুখ ঢেকে কথা বলেন। সাধারণ পরিস্থিতিতে এটি এখনও বৈধ।

ফুটবল বিশ্বে নতুন নিয়ম নিয়ে আবারও শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ইংল্যান্ডের তরুণ তারকা জুড বেলিংহ্যাম একটি ম্যাচে মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বললেও লাল কার্ড দেখেননি। অথচ একই ধরনের ঘটনার জন্য প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরনকে ম্যাচ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এই বৈপরীত্যকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠেছে “দুই স্তরের রেফারিং” বা ভিন্ন মানদণ্ডে বিচার করার অভিযোগ।

ইংল্যান্ড ও ঘানার মধ্যকার গ্রুপ পর্বের ম্যাচে প্রথমার্ধের শেষ দিকে উত্তেজনাপূর্ণ একটি মুহূর্ত তৈরি হয়। ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যাম ঘানার ডিফেন্ডার জেরোম ওপোকুর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

এরপর ঘানার ফরোয়ার্ড জর্ডান আয়ু তার সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে আসেন। সেই সময় বেলিংহ্যামকে নিজের মুখ হাত দিয়ে ঢেকে কথা বলতে দেখা যায়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী এই ধরনের আচরণ কিছু ক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য হওয়ায় অনেকেই ভেবেছিলেন তিনি লাল কার্ড দেখতে পারেন।

কিন্তু ম্যাচের রেফারি কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেননি। এখান থেকেই বিতর্কের সূচনা।

ফুটবলের নিয়ম প্রণয়নকারী সংস্থা IFAB সম্প্রতি একটি নতুন নির্দেশনা চালু করেছে। অনেক খেলোয়াড় মাঠে নিজেদের কথোপকথন গোপন রাখতে মুখ ঢেকে কথা বলেন। সাধারণ পরিস্থিতিতে এটি এখনও বৈধ।

তবে যদি কোনো খেলোয়াড় উত্তেজনাপূর্ণ বা সংঘর্ষপূর্ণ পরিস্থিতিতে মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষকে কিছু বলেন, তাহলে রেফারি সেটিকে অসদাচরণ হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন। এমন ক্ষেত্রে লাল কার্ড দেওয়ার ক্ষমতা রেফারির হাতে রয়েছে।

অর্থাৎ, মুখ ঢেকে কথা বলাই অপরাধ নয়। বরং কোন পরিস্থিতিতে সেটি করা হচ্ছে, সেটিই মূল বিষয়।

গত মৌসুমে একটি আলোচিত ইউরোপীয় ম্যাচের পর এই নিয়ম নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। একটি ঘটনায় একজন খেলোয়াড় মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষকে অপমানজনক মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

পরবর্তীতে তদন্তে তার বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক ও আপত্তিকর আচরণের প্রমাণ পাওয়া যায় এবং তাকে দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয়।

এই ঘটনার পর ফুটবল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় যে মাঠে মুখ ঢেকে কথোপকথনের বিষয়টি আরও কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা আরেকটি নাম মিগুয়েল আলমিরন। প্যারাগুয়ে ও তুরস্কের ম্যাচে আলমিরন প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার মের্ট মুলদুরের সঙ্গে তর্কের সময় মুখ ঢেকে কথা বলেন।

ঘটনাটি প্রথমে মাঠের রেফারির নজরে পড়েনি। তবে মুলদুর অভিযোগ জানান এবং পরে VAR বিষয়টি নিশ্চিত করে।

ফলাফল হিসেবে আলমিরনকে লাল কার্ড দেখানো হয় এবং এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়।

এই উদাহরণ সামনে রেখেই অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, বেলিংহ্যামের ক্ষেত্রে কেন একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো না?

বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, একই ধরনের দুই ঘটনার ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তাদের মতে, আলমিরনের ক্ষেত্রে নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হলেও বেলিংহ্যাম রেহাই পেয়েছেন। ফলে বড় দল বা জনপ্রিয় খেলোয়াড়দের জন্য আলাদা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষ করে ইউরোপীয় গণমাধ্যমের কিছু বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডের তারকা ফুটবলার হওয়ায় বেলিংহ্যাম তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলেন।

যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো প্রমাণ নেই, তবুও সিদ্ধান্তের পার্থক্য নিয়ে বিতর্ক থামছে না।

নিয়ম অনুযায়ী রেফারির ব্যক্তিগত মূল্যায়ন এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আলমিরনের ঘটনায় স্পষ্ট সংঘর্ষ এবং অভিযোগ ছিল। অন্যদিকে বেলিংহ্যামের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম উত্তেজনাপূর্ণ ছিল বলে মনে করেছেন ম্যাচ কর্মকর্তারা।

জর্ডান আয়ুও বিষয়টি নিয়ে বড় ধরনের প্রতিবাদ করেননি। ফলে রেফারি হয়তো ঘটনাটিকে লাল কার্ডের মতো গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখেননি।

তবে এখানেই তৈরি হচ্ছে “গ্রে এরিয়া” বা ধূসর অঞ্চল। কোন পরিস্থিতিকে সংঘর্ষপূর্ণ ধরা হবে এবং কোনটিকে নয়, তার নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা সব সময় স্পষ্ট থাকে না।

ম্যাচ শেষে ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজ বেলিংহ্যামের আচরণ নিয়ে সমালোচনা করেন।

তার দাবি, প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর টানেলের দিকে যাওয়ার সময় বেলিংহ্যাম উত্তেজিত আচরণ করেন এবং প্রতিপক্ষের কয়েকজনের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন।

কুইরোজের মতে, একটি ট্যাকলের পর পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হলেও আবেগপূর্ণ প্রতিক্রিয়ার কারণে উত্তেজনা বেড়ে যায়।

তবে তিনি এটাও বলেন যে ফুটবলে এমন ঘটনা অস্বাভাবিক নয় এবং আবেগের মুহূর্তে অনেক সময় খেলোয়াড়রা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।

বিতর্ক শুধু রেফারিংয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। ম্যাচে ইংল্যান্ড বলের দখল বেশি রাখলেও আক্রমণে খুব বেশি কার্যকর হতে পারেনি।

পুরো ম্যাচে তারা মাত্র কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করতে সক্ষম হয়। শেষ দিকে নিকো ও’রেইলি পোস্টে বল মারেন এবং পরে হ্যারি কেন একটি ভালো সুযোগ নষ্ট করেন।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগ প্রত্যাশামতো ধারালো ছিল না। অনেকেই মনে করছেন, প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভাঙতে দলটি যথেষ্ট সৃজনশীলতা দেখাতে পারেনি।

মুখ ঢেকে কথা বলার নিয়মটি এখনও তুলনামূলকভাবে নতুন। ফলে এর প্রয়োগে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যদি একই ধরনের ঘটনায় ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত আসতে থাকে, তাহলে বিতর্ক আরও বাড়বে। ফুটবলপ্রেমীরা চান নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হোক, তা সে বড় তারকা হোক কিংবা কম পরিচিত কোনো খেলোয়াড়।

বর্তমান পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে, শুধু নিয়ম তৈরি করলেই হয় না; সেই নিয়মের ব্যাখ্যা এবং বাস্তব প্রয়োগও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

জুড বেলিংহ্যামের মুখ ঢেকে কথা বলার ঘটনাটি ফুটবল বিশ্বের নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে মিগুয়েল আলমিরনের লাল কার্ড, অন্যদিকে বেলিংহ্যামের শাস্তি এড়িয়ে যাওয়া—এই দুই ঘটনার তুলনা এখন আন্তর্জাতিক আলোচনার বিষয়।

নিয়ম অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রেফারির হাতে থাকলেও, ফুটবলপ্রেমীদের বড় প্রশ্ন হলো—সব খেলোয়াড় কি সত্যিই একই মানদণ্ডে বিচার পাচ্ছেন? যতদিন এই প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তর না মিলবে, ততদিন “দুই স্তরের রেফারিং” বিতর্ক ফুটবল অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেই থাকবে।