খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ট্রাম্প প্রশাসনে ফাটল? ভ্যান্স বনাম রুবিওর দ্বন্দ্বে নতুন মোড়!

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন প্রকাশ্যে নিজেদের মধ্যে পূর্ণ...
Homeবিশ্ব সংবাদমধ্যপ্রাচ্য সংকটে ট্রাম্প প্রশাসনে ফাটল? ভ্যান্স বনাম রুবিওর দ্বন্দ্বে নতুন মোড়!

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ট্রাম্প প্রশাসনে ফাটল? ভ্যান্স বনাম রুবিওর দ্বন্দ্বে নতুন মোড়!

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন প্রকাশ্যে নিজেদের মধ্যে পূর্ণ ঐক্যের কথা বললেও বাস্তবে প্রশাসনের দুই প্রভাবশালী নেতা—মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও—ইরান ও ইসরায়েল নীতি নিয়ে ভিন্ন বার্তা দিচ্ছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ভিন্ন অবস্থান শুধু পররাষ্ট্রনীতির পার্থক্য নয়; এটি রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতারও ইঙ্গিত বহন করছে।

সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রাথমিক শান্তি চুক্তিকে এগিয়ে নিতে পৃথক কূটনৈতিক সফরে যান জেডি ভ্যান্স ও মার্কো রুবিও। সুইজারল্যান্ড সফর শেষে ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে চলমান সংলাপ নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় দেশগুলো ভবিষ্যতে ইরানের পুনর্গঠনে আর্থিক সহায়তা দিতে পারে। তিনি আরও দাবি করেন, কাতারে পেন্টাগনের সঙ্গে সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য একজন ইরানি গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে যুক্তরাষ্ট্র আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দেয় ইসরায়েলকে নিয়ে তার মন্তব্য। ভ্যান্স বৈরুতের বেসামরিক স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলার সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চল সফর শেষে সম্পূর্ণ ভিন্ন বার্তা দেন মার্কো রুবিও। তিনি লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে হিজবুল্লাহর হামলার বিরুদ্ধে একটি যৌক্তিক ও প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরেন।

ভ্যান্সের সমালোচনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও রুবিও সরাসরি সে বিষয়ে মন্তব্য না করে হিজবুল্লাহর হামলার বিষয়টি সামনে আনেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, বর্তমানে উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে ইরানের পুনর্গঠনে অর্থায়নের অনুরোধ করার কোনো পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

রুবিও আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অবশ্যই একটি কার্যকর চুক্তি চায়, তবে শুধু চুক্তি করার জন্য যেকোনো শর্ত মেনে নেওয়ার পক্ষে নয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য দুই নেতার বক্তব্যে কোনো নীতিগত দ্বন্দ্ব রয়েছে—এমন দাবি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি বলেন, পুরো প্রশাসন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বেই কাজ করছে। তার মতে, প্রশাসনের একমাত্র লক্ষ্য হলো ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগটও বিষয়টিকে ‘পুরোনো ও ভিত্তিহীন’ দাবি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সবাই একই নীতির প্রতি শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক মুখপাত্র জানান, লেবানন ইস্যুতেও প্রশাসনের অবস্থান অভিন্ন। তাদের প্রধান লক্ষ্য দেশটির সরকারের সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

রুবিও নিজেও দাবি করেন, প্রশাসনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা অনুসারেই বাস্তবায়িত হচ্ছে।

সরকারি ব্যাখ্যা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, জেডি ভ্যান্স ও মার্কো রুবিও মূলত রিপাবলিকান পার্টির দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার প্রতিনিধিত্ব করছেন।

আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো মাইকেল রুবিনের মতে, দুই নেতার পার্থক্য কেবল কৌশলগত নয়; এটি তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দর্শনের প্রতিফলন।

রাজনীতিতে আসার আগে থেকেই জেডি ভ্যান্স বিদেশে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সম্পৃক্ততার সমালোচক হিসেবে পরিচিত। তিনি বারবার বলেছেন, বিদেশি যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও মানবসম্পদের অপচয় ঘটায়।

অন্যদিকে মার্কো রুবিও দীর্ঘদিন সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ইরান, রাশিয়া এবং কিউবার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। জাতীয় নিরাপত্তা ও যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাব বজায় রাখতে শক্ত অবস্থানকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপেও রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে এ বিষয়ে মতবিরোধের আভাস পাওয়া গেছে। রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৫২ শতাংশ রিপাবলিকান মনে করেন, বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে।

এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, দলের ভেতরেও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। বিশেষ করে ইরান, ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আগামী দিনে আরও জোরালো হতে পারে।