খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ট্রাম্প প্রশাসনে ফাটল? ভ্যান্স বনাম রুবিওর দ্বন্দ্বে নতুন মোড়!

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন প্রকাশ্যে নিজেদের মধ্যে পূর্ণ...
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালরাজনীতিস্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে নতুন জোট?

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে নতুন জোট?

জামায়াতের তৃণমূল পর্যায়ে এ ধরনের সমঝোতা নিয়ে আপত্তিও রয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন সমঝোতার মাধ্যমে একসঙ্গে ভোটের মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সেই সমন্বয়ের ধারাবাহিকতায় এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিশেষ করে সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও দুই দলের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার আলোচনা চলছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন উঠেছে।

যদিও প্রকাশ্যে উভয় দলই এককভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতির কথা বলছে, দলীয় সূত্রগুলো বলছে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশনে প্রার্থী সমন্বয়ের বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে জামায়াতের তৃণমূল পর্যায়ে এ ধরনের সমঝোতা নিয়ে আপত্তিও রয়েছে। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও অনিশ্চিত।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ মোট ১১টি রাজনৈতিক দল আসন সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচন করে। দলগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল কেবল একটি নির্বাচনি সমঝোতা, আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক জোট নয়।

সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলেও বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে ১১টি দল এখনও সমন্বিতভাবে কর্মসূচি পালন করছে। বিশেষ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতে এই দলগুলোর অবস্থান একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে।

এছাড়া সরকার ইতিবাচক কোনো পদক্ষেপ নিলে তা সমর্থন এবং জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের সমালোচনা করার নীতিতেও তারা একমত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নেতারা জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ নির্বাচনের সমঝোতা স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও জামায়াত ও এনসিপি উভয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা বলছে, বাস্তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশনে সমঝোতার আলোচনা চলছে।

বিশেষ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে ঘিরে দুই দলের মধ্যে দরকষাকষি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। এ কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে আটটিতে মেয়র প্রার্থী প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দলীয় সূত্র অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণে ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েমকে প্রাথমিকভাবে মেয়র প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া চট্টগ্রামে মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী, গাজীপুরে হাফিজুর রহমান, রংপুরে এটিএম আজম খান, বরিশালে মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, খুলনায় মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এবং নারায়ণগঞ্জে মোহাম্মদ আবদুল জব্বারকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইতোমধ্যে পাঁচটি সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দলটির মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা উত্তরে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে প্রার্থী করা হয়েছে।

এ ছাড়া সিলেটে অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান আফজাল, রাজশাহীতে মোবাশ্বের আলী এবং কুমিল্লায় জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলামকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে দলটি। শিগগিরই বাকি সিটিগুলোর প্রার্থীর নামও প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।

এনসিপির নেতাদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলটির জন্য সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম বলেন, এনসিপি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে। জোটগতভাবে নির্বাচন করলে জয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকলেও দলীয় ভিত্তি শক্তিশালী করতে তারা নিজস্ব প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

১১ দলীয় সমন্বয়ক এবং জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকার এখনও স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। তাই নির্বাচন কবে হবে, সেটিই এখনও অনিশ্চিত।

তিনি আরও বলেন, জামায়াত আপাতত এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা হলে ১১ দলীয় সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও। তিনি বলেন, শুধু এনসিপি নয়, ১১ দলীয় সমঝোতায় থাকা প্রতিটি দলই নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে।

দুই দলের আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

এনসিপির এক যুগ্ম আহ্বায়ক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দলটি একক প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কোনোভাবেই ছাড়তে চায় না এনসিপি। পাশাপাশি কুমিল্লা সিটিও তাদের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।

অন্যদিকে জামায়াতের তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি অংশ এনসিপিকে সিটি করপোরেশনের আসন ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানাচ্ছেন। তাদের মতে, জাতীয় নির্বাচনে সমঝোতার পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ছাড় দিলে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জামায়াত কখনও ক্ষমতার লোভে রাজনীতি করেনি। দলটি সবসময় দেশ ও জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

তিনি জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ১১ দলের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছিল, সেটি ছিল সময়ের প্রয়োজন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে, তা দলীয় ফোরামে আলোচনা করেই চূড়ান্ত করা হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে জামায়াত ও এনসিপির অবস্থান আপাতদৃষ্টিতে একক নির্বাচনের হলেও রাজনৈতিক বাস্তবতা ভিন্ন চিত্রও দেখাতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা দক্ষিণসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশনে সমঝোতা হলে ১১ দলীয় সমন্বয়ের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।

তবে তৃণমূলের আপত্তি, প্রার্থী বাছাই এবং রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের কারণে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত হবে, তা নির্ভর করবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দুই দলের আনুষ্ঠানিক আলোচনার ওপর।