খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালজাতীয়ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা আবার চালু! বাংলাদেশিদের জন্য নতুন নিয়ম ও আবেদন পদ্ধতি...

ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা আবার চালু! বাংলাদেশিদের জন্য নতুন নিয়ম ও আবেদন পদ্ধতি জানুন

সম্প্রতি ভারতীয় ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেদিন আবেদনকারী নথিপত্র জমা দেবেন, তার আগের কার্যদিবসে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশি ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে ভারত। অবশেষে বাংলাদেশিদের জন্য আবারও ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করার ঘোষণা দিয়েছে ভারত সরকার। আগামী ২৮ জুন থেকে ভিসার জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হবে এবং ১ জুলাই থেকে ভিসা ইস্যু কার্যক্রম শুরু হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে ভ্রমণ, ব্যবসা, চিকিৎসা ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আরও জোরদার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশিদের জন্য আবার চালু হলো ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা

রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র পরিদর্শনের পর ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ট্যুরিস্ট ভিসার পাশাপাশি মেডিকেল ভিসা কার্যক্রমও আগের মতো চালু থাকবে।

বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা এবং সিলেটে অবস্থিত পাঁচটি ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের মাধ্যমে বাংলাদেশিরা আবেদন করতে পারবেন। ভবিষ্যতে আরও নতুন ভিসা সেন্টার চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

ভিসা আবেদনকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা

ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, মেডিকেল ভিসাপ্রত্যাশী, শিশু এবং প্রতিবন্ধী আবেদনকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে জরুরি চিকিৎসা কিংবা বিশেষ প্রয়োজনসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালুর ফলে পর্যটন শিল্প যেমন উপকৃত হবে, তেমনি দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কও আরও দৃঢ় হবে।

ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করবেন যেভাবে

ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন এখন সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক। আবেদনকারীদের প্রথমে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে ভিসা আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে।

আবেদনপত্রে প্রয়োজনীয় সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করার পর সেটি ডাউনলোড করতে হবে। এরপর ভিসা সেন্টারে নথিপত্র জমা দেওয়ার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে হবে।

অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের নতুন নিয়ম

সম্প্রতি ভারতীয় ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেদিন আবেদনকারী নথিপত্র জমা দেবেন, তার আগের কার্যদিবসে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।

দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আবেদনকারীরা সাইন-আপ এবং ওয়েবফাইল আপলোড করতে পারবেন। যারা সফলভাবে ওয়েবফাইল আপলোড করবেন, শুধুমাত্র তারাই অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করার সুযোগ পাবেন।

সাইন-আপের সময় আবেদনকারীর ইমেইল এবং মোবাইল নম্বরে পৃথক দুটি ওটিপি পাঠানো হবে। এই ওটিপি যাচাই সম্পন্ন করার পর ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে।

বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে সাইন-আপ সম্পন্ন না করলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা সম্ভব হবে না।

লগইন ও ডকুমেন্ট আপলোড প্রক্রিয়া

সাইন-আপ সম্পন্ন হলে মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করতে হবে। লগইনের পর মোবাইলে পাঠানো ওটিপি দিয়ে প্রবেশ করলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেজ দেখা যাবে।

এ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে। সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডকুমেন্ট থেকে তথ্য সংগ্রহ করবে। এরপর অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট চালু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

সন্ধ্যা ৬টায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট চালু হলে আবেদনকারী পুনরায় লগইন করে নির্ধারিত সময় নির্বাচন করতে পারবেন। একবার অ্যাপয়েন্টমেন্ট পরিবর্তনের সুযোগও রাখা হয়েছে।

ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা পেতে আবেদনকারীদের নিম্নলিখিত নথিপত্র জমা দিতে হবে—

১. বৈধ পাসপোর্ট

পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস থাকতে হবে এবং অন্তত দুটি খালি পৃষ্ঠা থাকতে হবে। পাসপোর্টের প্রথম চার পৃষ্ঠার ফটোকপিও জমা দিতে হবে। পুরোনো সব পাসপোর্টও সঙ্গে দিতে হবে।

২. সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি

তিন মাসের মধ্যে তোলা ২x২ ইঞ্চি আকারের রঙিন ছবি জমা দিতে হবে। ছবিতে পুরো মুখ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান থাকতে হবে।

৩. জন্ম তারিখের প্রমাণ

জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি জমা দিতে হবে।

৪. ঠিকানার প্রমাণ

বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি অথবা টেলিফোন বিলের কপি জমা দিতে হবে। এসব বিল ছয় মাসের বেশি পুরোনো হওয়া যাবে না।

৫. পেশাগত পরিচয়ের প্রমাণ

চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার প্রত্যয়নপত্র, শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে বৈধ ট্রেড লাইসেন্স জমা দিতে হবে।

৬. আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ

আবেদনকারীদের কমপক্ষে ১৫০ মার্কিন ডলার সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের কপি অথবা পর্যাপ্ত ব্যালেন্সসহ হালনাগাদ ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাতে হবে।

৭. অনলাইন ভিসা আবেদনপত্র

অনলাইনে পূরণ করা আবেদনপত্রের রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ প্রিন্ট কপি জমা দিতে হবে।

৮. ডিজিটাল ছবি আপলোড

অনলাইন আবেদনপত্রে নির্ধারিত স্থানে আবেদনকারীর ছবি স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।

৯. পুরোনো পাসপোর্ট জমা

আবেদনকারীর পূর্ববর্তী সব পাসপোর্ট জমা দিতে হবে। তা না হলে আবেদন অসম্পূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

ভারতের ভিসা প্রসেসিং ফি কত?

ভারত সরকার ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য কোনো ভিসা ফি গ্রহণ করে না। তবে আবেদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য আইভ্যাক (IVAC) নির্ধারিত সার্ভিস চার্জ গ্রহণ করে।

বর্তমানে সব ধরনের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য ১,৫০০ টাকা সার্ভিস চার্জ দিতে হয়। অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের সময় অনলাইনে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

পাসপোর্ট ফেরত পাওয়ার নিয়ম

ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আবেদনকারীর মোবাইল নম্বরে একটি এসএমএস পাঠানো হবে। এসএমএস পাওয়ার পর নির্ধারিত ভিসা আবেদন কেন্দ্র থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করা যাবে।

আবেদনকারীদের উচিত আবেদন করার সময় প্রদত্ত মোবাইল নম্বর সচল রাখা, যাতে ভিসা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দ্রুত পাওয়া যায়।

বাংলাদেশ-ভারত ভ্রমণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার

ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু হওয়ায় বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যারা চিকিৎসা, শিক্ষা, ধর্মীয় ভ্রমণ, ব্যবসা কিংবা অবকাশ যাপনের উদ্দেশ্যে ভারতে যেতে চান, তারা এখন সহজেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।

দীর্ঘ বিরতির পর এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, পর্যটন শিল্পের সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারত ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে এখনই প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করে নির্ধারিত সময়ে আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।