খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালমেসির বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন রেকর্ড, অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করল আর্জেন্টিনা

মেসির বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন রেকর্ড, অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করল আর্জেন্টিনা

পেনাল্টি মিসের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই ১৯ মিনিটে আরেকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন মেসি। প্রায় একা গোলরক্ষকের সামনে পেয়েও বল জালে পাঠাতে পারেননি তিনি। ফলে কিছু সময়ের জন্য হতাশা নেমে আসে আর্জেন্টিনা শিবিরে।

লিয়োনেল মেসির অনন্য নৈপুণ্যে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী জয় তুলে নেয় লিওনেল স্কালোনির দল। ম্যাচে একটি পেনাল্টি মিস করলেও দুই গোল করে দলের জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন মেসি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন রেকর্ডও গড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করতে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়ে মাঠে নামে আর্জেন্টিনা। কোচ লিওনেল স্কালোনি তার খেলোয়াড়দের দ্রুত আক্রমণে ওঠার নির্দেশ দেন। বলের দখল, পাসিং এবং আক্রমণ গঠনে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।

তবে দর্শকদের প্রধান আকর্ষণ ছিল একটাই—লিয়োনেল মেসির বিশ্বরেকর্ড। বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার জন্য তার প্রয়োজন ছিল মাত্র একটি গোল। সেই অপেক্ষায় ছিলেন কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী।

ম্যাচের নবম মিনিটেই কাঙ্ক্ষিত সুযোগ পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা। বক্সের মধ্যে লাউতারো মার্টিনেজকে ফাউল করলে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (VAR) সহায়তায় পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি।

স্বাভাবিকভাবেই স্পট কিক নিতে এগিয়ে যান লিয়োনেল মেসি। পুরো স্টেডিয়াম তখন ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার অপেক্ষায়। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে গোল করতে ব্যর্থ হন তিনি। মেসির নেওয়া শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লেগার।

পেনাল্টি মিসের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই ১৯ মিনিটে আরেকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন মেসি। প্রায় একা গোলরক্ষকের সামনে পেয়েও বল জালে পাঠাতে পারেননি তিনি। ফলে কিছু সময়ের জন্য হতাশা নেমে আসে আর্জেন্টিনা শিবিরে।

মেসির সুযোগ নষ্টের পর আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় অস্ট্রিয়া। তারাও পাল্টা আক্রমণে উঠে আসে। ফলে ম্যাচে তৈরি হয় দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তবে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে খুব বেশি সমস্যায় ফেলতে পারেনি ইউরোপীয় দলটি।

অন্যদিকে মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ধারাবাহিক আক্রমণ চালিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। স্কালোনির পরিকল্পনার স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায় দলের প্রতিটি আক্রমণে। দ্রুত পাস, ফ্ল্যাঙ্ক ব্যবহার এবং বলের নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে ছিল আলবিসেলেস্তেরা।

অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে ইতিহাস গড়ে ফেলেন লিওনেল মেসি।

দ্রুতগতির আক্রমণে থিয়াগো আলমাদা বল নিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে প্রবেশ করেন। এরপর বাম দিক দিয়ে মেদিনার কাছে বল পৌঁছে যায়। মেদিনা নিখুঁত ক্রস পাঠালে বক্সের মধ্যে বল নিয়ন্ত্রণ করে দুর্দান্ত শটে গোল করেন মেসি।

এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের ১৭তম গোল পূর্ণ করেন তিনি। পাশাপাশি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় নতুন রেকর্ড গড়ে ছাড়িয়ে যান জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজেকে। মুহূর্তেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে পুরো স্টেডিয়াম।

গোল হজম করার পর সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে অস্ট্রিয়া। তারা আক্রমণের গতি বাড়ালেও আর্জেন্টিনার সংগঠিত রক্ষণভাগের সামনে সফল হতে পারেনি।

এই সময়ে ম্যাচে বাড়তে থাকে ফাউল এবং উত্তেজনা। কয়েকবার দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বাকবিতণ্ডাও দেখা যায়। তবে রেফারি কঠোর অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। গোলের সুযোগও তৈরি হয় একাধিকবার। তবে শেষ মুহূর্তে ব্যর্থতার কারণে ব্যবধান বাড়ানো সম্ভব হচ্ছিল না।

খেলার গতি পরিবর্তনের জন্য কৌশলগত পরিবর্তন আনেন কোচ স্কালোনি। প্রথমে রক্ষণকে আরও শক্তিশালী করতে পরিবর্তন করেন। এরপর ৬৪ মিনিটে একসঙ্গে নিকোলাস গঞ্জালেজ এবং জুলিয়ান আলভারেজকে মাঠে নামান।

তাদের আগমনে আক্রমণের ধার বাড়লেও অস্ট্রিয়ার ডিফেন্ডাররা দৃঢ় অবস্থান ধরে রাখেন। বক্সের ভেতরে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত জায়গা দিচ্ছিলেন না তারা। ফলে একাধিক ভালো আক্রমণও গোলের দেখা পাচ্ছিল না।

ম্যাচের শেষদিকে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন লিয়োনেল মেসি। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেদ করে দ্বিতীয় গোলটি করে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেন তিনি। তার জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় আর্জেন্টিনা।

এই জয়ের ফলে শুধু নকআউট পর্বই নিশ্চিত হয়নি, বরং শিরোপা জয়ের পথে নিজেদের শক্ত অবস্থানের বার্তাও দিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

লিয়োনেল মেসি আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় বলা হয়। একটি পেনাল্টি মিস করার হতাশা ঝেড়ে ফেলে তিনি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন। দুই গোল করে দলকে নকআউটে তোলার পাশাপাশি গড়েন বিশ্বকাপের নতুন গোলরেকর্ড।

তার নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা এবং ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্স আর্জেন্টিনার জন্য বড় শক্তি হয়ে উঠেছে। সামনে নকআউট পর্বে আরও কঠিন প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করলেও মেসির দুর্দান্ত ফর্ম আর্জেন্টিনা সমর্থকদের নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে।