খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালরাজধানীওসমান হাদির মামলায় নতুন বিতর্ক! বোন মাসুমা হাদির বিস্ফোরক প্রশ্ন

ওসমান হাদির মামলায় নতুন বিতর্ক! বোন মাসুমা হাদির বিস্ফোরক প্রশ্ন

মাসুমা হাদি দাবি করেন, তার ভাই গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়ার পর তিনি দ্রুত ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। সেখানে তিনি সার্বক্ষণিকভাবে উপস্থিত ছিলেন এবং চিকিৎসা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

শরীফ ওসমান হাদি–কে কেন্দ্র করে হত্যা মামলার বাদী নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। তিনি দাবি করেছেন, মামলার বাদী নির্ধারণ কীভাবে হয়েছে এবং কার অনুমতিতে এটি সম্পন্ন হয়েছে—এ বিষয়ে স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন।

এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা এবং নানা ধরনের দাবি-প্রতিদাবি ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, অনলাইনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ও ‘নোংরামি’ ছড়ানো হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাসুমা হাদির দীর্ঘ পোস্ট

শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন মাসুমা হাদি। সেখানে তিনি ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি, পরিবারের অবস্থান এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।

তিনি বলেন, পারিবারিক সংবেদনশীলতার কারণে শুরু থেকেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তারা প্রকাশ্যে আনেননি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মামলার বাদী নির্বাচন নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা তাদের বাধ্য করেছে বিষয়টি পরিষ্কার করতে।

মাসুমা হাদি দাবি করেন, তার ভাই গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়ার পর তিনি দ্রুত ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। সেখানে তিনি সার্বক্ষণিকভাবে উপস্থিত ছিলেন এবং চিকিৎসা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

তার প্রশ্ন, হাসপাতালে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে অন্য একজনের কাছ থেকে মামলার স্বাক্ষর নেওয়া হলো। তিনি এ বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছেন বলেও জানান।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সেই সময় চিকিৎসা ছিল সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, তাই আইনি প্রক্রিয়ার কিছু সিদ্ধান্ত পরে নেওয়ার কথাও আলোচনায় ছিল।

পোস্টে মাসুমা হাদি দাবি করেন, ফৌজদারি মামলায় বাদীর স্বাক্ষর কখন নেওয়া হয়েছে—আগে বা পরে—এটি বড় কোনো আইনি জটিলতা তৈরি করে না।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ চাইলে ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে (suo motu) আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। অর্থাৎ শুধু স্বাক্ষরের ওপর পুরো তদন্ত প্রক্রিয়া নির্ভরশীল নয়।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, মামলার প্রক্রিয়া নিয়ে যেসব প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, তার সবগুলোই আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিক নাও হতে পারে।

মাসুমা হাদি তার আরেক স্বজন ওমর ফারুক–এর ভূমিকাও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, আহত অবস্থায় হাসপাতালে থাকা এবং কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ওমর ফারুক চিকিৎসা সহায়তা ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

পরবর্তীতে সরকারের উদ্যোগে চিকিৎসা প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, সংকটময় সময়ে পরিবারের সবাই নিজেদের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।

তিনি জানান, শুরুতে পরিবার অনেক বিষয় প্রকাশ্যে আনতে চায়নি। কারণ তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল চিকিৎসা ও রোগীর সুস্থতা নিশ্চিত করা।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ধরনের আলোচনা, সমালোচনা ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তার কারণে তারা এখন ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

এই নীরবতা ভাঙার সিদ্ধান্তকে তিনি পরিস্থিতিগত ও অনিবার্য বলে উল্লেখ করেন।

মাসুমা হাদি আরও অভিযোগ করেন, একটি ‘বিপ্লবী’ পরিচয়ধারী ব্যক্তির পরিবারকে কেন্দ্র করে অনলাইনে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তার মতে, কিছু গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সম্মানহানি করার চেষ্টা করছে।

তিনি এসব অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান জানান এবং সবাইকে বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক না করার অনুরোধ করেন।

এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, আবার কেউ পরিবারের ব্যাখ্যাকে সমর্থন করছেন।

বিশেষ করে বাদী নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং হাসপাতালের সময়কার সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।