বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ মুহূর্তে একটি ম্যাচই পাল্টে দিল পুরো টুর্নামেন্টের চিত্র। একদিকে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে কেপ ভার্দে, অন্যদিকে একটি ফলাফলের কারণে একসঙ্গে পাঁচটি দেশের শেষ ৩২ নিশ্চিত হয়েছে। এখন ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে চলেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের মহারণ, যেখানে মুখোমুখি হবেন লিওনেল মেসি এবং কেপ ভার্দের দুর্ভেদ্য গোলরক্ষক ভোজিনহা।
প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই ইতিহাস সৃষ্টি করেছে কেপ ভার্দে। তিন ম্যাচ শেষে ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় স্থান দখল করে তারা জায়গা করে নিয়েছে রাউন্ড অব ৩২-এ। এটি শুধু তাদের জন্য নয়, বিশ্বকাপ ইতিহাসেরও একটি অনন্য অর্জন।
এর আগে ২০১০ সালের পর আর কোনো দেশ প্রথম অংশগ্রহণেই নকআউটে উঠতে পারেনি। পাশাপাশি সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার কীর্তিও এখন কেপ ভার্দের দখলে।
কেপ ভার্দের এই সাফল্যের অন্যতম নায়ক গোলরক্ষক ভোজিনহা। গ্রুপ পর্বে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে তিনি দলের রক্ষণকে প্রায় অভেদ্য করে তুলেছিলেন। বিশেষ করে সৌদি আরবের বিপক্ষে তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্স দলকে মূল্যবান ফল এনে দেয়।
এর আগেও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তাঁর দৃঢ়তা আলোচনায় আসে। এবার আরও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে তাঁর সামনে।
নকআউটে কেপ ভার্দের ভাগ্যে জুটেছে সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ। তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্বে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল উপহার দিয়েছে। অন্যদিকে কেপ ভার্দে আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামলেও শক্তির বিচারে আর্জেন্টিনাই স্পষ্ট ফেবারিট।
তবুও ফুটবল বারবার প্রমাণ করেছে, নকআউট ম্যাচে যেকোনো অঘটন সম্ভব। তাই মেসি বনাম ভোজিনহার দ্বৈরথ ঘিরে এখন থেকেই বাড়ছে উত্তেজনা।
স্পেন উরুগুয়েকে হারানোর ফলে গ্রুপের অবস্থান নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়। কেপ ভার্দে দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখে নকআউটে ওঠে, আর দুই পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে শেষ করেও বিদায় নিতে হয় উরুগুয়েকে।
এই একটি ফলাফল শুধু একটি গ্রুপ নয়, পুরো টুর্নামেন্টের নকআউট সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলেছে।
উরুগুয়ের পরাজয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা পেয়েছে পাঁচটি দেশ। গ্রুপ পর্বে একটি ম্যাচ বাকি থাকতেই শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে—
- ইংল্যান্ড
- পর্তুগাল
- ঘানা
- মিশর
- প্যারাগুয়ে
প্রতিটি দলের ঝুলিতে রয়েছে ৪ পয়েন্ট। শেষ ম্যাচে হারলেও তারা অন্তত চার পয়েন্টেই থাকবে। ফলে অন্য গ্রুপের তৃতীয় স্থানে থাকা ৩ পয়েন্টের দলগুলো আর তাদের টপকে যেতে পারবে না।
একটি ম্যাচের ফলেই তাই পাঁচটি দেশের নকআউট নিশ্চিত হয়ে যায়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সেরা তৃতীয় স্থানধারী দল হিসেবে রাউন্ড অব ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত করেছে কয়েকটি দল। তারা হলো—
- সুইডেন
- ইকুয়েডর
- বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা
- প্যারাগুয়ে
অন্যদিকে সেনেগালের ভাগ্য এখনও ঝুলে রয়েছে। শেষ ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে তাদের ভবিষ্যৎ।
‘জি’ গ্রুপের বেলজিয়াম ও নিউজিল্যান্ড ম্যাচ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত নকআউট পর্বের সম্ভাব্য সূচি ছিল—
২৮ জুন
দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম কানাডা — লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়াম
২৯ জুন
ব্রাজিল বনাম জাপান — হিউস্টন স্টেডিয়াম
২৯ জুন
জার্মানি বনাম প্যারাগুয়ে — বস্টন স্টেডিয়াম
৩০ জুন
নেদারল্যান্ডস বনাম মরক্কো — এস্তাদিও মন্টেরে
৩০ জুন
আইভরি কোস্ট বনাম নরওয়ে — ডালাস স্টেডিয়াম
৩০ জুন
ফ্রান্স বনাম সুইডেন — নিউ জার্সি স্টেডিয়াম
৩০ জুন
যুক্তরাষ্ট্র বনাম বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা — সান ফ্রান্সিসকো স্টেডিয়াম
৪ জুলাই
আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে — মায়ামি স্টেডিয়াম
সব সময় ভারতীয় সময় অনুযায়ী।
রাউন্ড অব ৩২-এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচ নিঃসন্দেহে আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে। একদিকে বিশ্বসেরা তারকা লিওনেল মেসি, অন্যদিকে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা গোলরক্ষক ভোজিনহা।
কেপ ভার্দে যদি নিজেদের রক্ষণাত্মক দৃঢ়তা ধরে রাখতে পারে, তাহলে ম্যাচটি কঠিন হয়ে উঠতে পারে আর্জেন্টিনার জন্যও। তবে অভিজ্ঞতা, তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড এবং বড় ম্যাচের মানসিকতায় এগিয়ে থাকবে মেসির দল।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষদিকে এসে প্রতিটি ম্যাচই হয়ে উঠছে ভাগ্য নির্ধারণকারী। একটি ম্যাচের ফলেই যেমন ইতিহাস গড়েছে কেপ ভার্দে, তেমনি একসঙ্গে পাঁচটি দেশের নকআউটও নিশ্চিত হয়েছে। এখন সবার নজর রাউন্ড অব ৩২-এর দিকে, যেখানে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নিজেদের রূপকথার যাত্রা আরও দীর্ঘ করার স্বপ্ন দেখছে কেপ ভার্দে। ফুটবলপ্রেমীরা অপেক্ষা করছেন আরেকটি স্মরণীয় নকআউট লড়াইয়ের।


