খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

খামেনির দাফন ও শেষ বিদায়: তেহরানে তিন দিনের ছুটি

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়কে কেন্দ্র করে রাজধানী তেহরানে তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তার জানাজা, শ্রদ্ধা নিবেদন...
Homeবিশ্ব সংবাদযুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা ভেঙে গেল: বৈঠক বর্জন করল ইরান

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা ভেঙে গেল: বৈঠক বর্জন করল ইরান

আলোচনার ভেঙে যাওয়া শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই প্রভাব ফেলবে না, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা নতুন করে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠকে হঠাৎ করেই আলোচনা বর্জন করে সভাকক্ষ ত্যাগ করেছে ইরানের প্রতিনিধি দল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কঠোর হুমকির জের ধরেই এই নাটকীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া হুমকি শান্তি প্রক্রিয়ার মৌলিক শর্ত লঙ্ঘন করেছে এবং এর ফলে আলোচনায় থাকা আর সম্ভব হয়নি।

ইরানের অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল। দেশটি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একই টেবিলে বসে আলোচনায় আগ্রহী ছিল না। কেবল কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নিতে রাজি হয়েছিল তেহরান।

গালিবাফ জানান, বৈঠক চলাকালীন তিনি খবর পান যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে ইরানের প্রেসিডেন্ট, প্রতিনিধি দল এবং দেশের মূল ভূখণ্ডে সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন। এই তথ্য জানার পরপরই তিনি মার্কিন প্রতিনিধি দলের প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানান।

তার ভাষায়, শান্তি আলোচনার মূল নীতিই হলো হুমকি ও সামরিক চাপ থেকে দূরে থাকা। কিন্তু ট্রাম্পের বক্তব্য সেই নীতিকে সরাসরি ভেঙে দিয়েছে।

বৈঠকের মধ্যেই ইরানি প্রতিনিধি দল মার্কিন পক্ষকে জানিয়ে দেয়, হুমকির মুখে কোনো আলোচনা চলতে পারে না। গালিবাফ জেডি ভ্যান্সকে বলেন, আলোচনার প্রথম শর্ত অনুযায়ী কোনো পক্ষ অপর পক্ষকে ভয় দেখাতে বা সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, ইরান কখনোই চাপের মুখে সিদ্ধান্ত নেয় না এবং জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করবে না।

এরপরই পুরো ইরানি প্রতিনিধি দল একযোগে সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়। এর মধ্য দিয়ে শান্তি বৈঠক কার্যত ভেঙে পড়ে।

ইরানি প্রতিনিধি দল বেরিয়ে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে জরুরি আরেকটি বৈঠকের প্রস্তাব দেয়। তবে তেহরান সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে।

পরে কাতার ও পাকিস্তানের বিশেষ প্রতিনিধি ইরানের আবাসস্থলে গিয়ে তাদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন। সেখানে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তারা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কথা বলবে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আপাতত আর কোনো আলোচনায় বসবে না।

এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রায় ৮০ মিনিট ধরে কাতার ও পাকিস্তান ইরানের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা চালায়। পরে একটি যৌথ কূটনৈতিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।

ঘটনার আগে গত রবিবার ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানকে কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, তেহরান যেন লেবাননে তাদের মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলোকে নতুন করে সংঘাত তৈরি করতে না দেয়।

ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তা না হলে যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

শুধু তাই নয়, ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও ট্রাম্প ইরানকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার চেষ্টা করে, তবে তার ভয়াবহ পরিণতি হবে।

তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

দীর্ঘ উত্তেজনার পর গত ১৪ জুন পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফার একটি শান্তি সমঝোতায় পৌঁছায়। এই সমঝোতা “ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক” নামে পরিচিত।

১৮ জুন দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের ডিজিটাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে এটি কার্যকর হয়।

চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল—

লেবাননে চলমান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা,

হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত রাখা,

এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা।

কিন্তু সর্বশেষ উত্তেজনার কারণে এই ঐতিহাসিক চুক্তির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনার ভেঙে যাওয়া শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই প্রভাব ফেলবে না, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন কোনো উত্তেজনা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার দিকে। কারণ এই দুই দেশই এখন একমাত্র সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে।

পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটাই এখন বিশ্ব রাজনীতির বড় প্রশ্ন।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি