সপ্নাদেশে শুরু হওয়া পালবাড়ির বিশেষ পুজো

Print This Post Print This Post
35

প্রান্তিক মৈত্র, ঝাড়গ্রাম : স্বপ্না দেশ পেয়ে শুরু হওয়া পাল বাড়ির দূর্গা পূজায় মহালয়া থেকে দশমী ঘট বিসর্জন এর আগের পর্যন্ত নিরামিষ খাওয়া হয়। সেই নিয়ম আজও চলে আসছে। পাল বাড়ির পুজোয় কুমড়ো বলি দেওয়া হয়। কোন পশু বলি দেওয়া হয় না। সন্ধিপুজোয় লুচি ও মোহন ভোগের আয়োজন। খড়ের চালায় দুর্গাপূজা শুরু করে পূজা প্রতিষ্ঠার ভাগ্য ফিরে ছিল বলে জানা যায়। প্রায় দেড়শো বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসছে সেই পুজো। ঝাড়গ্রাম জেলার বিনপুরের পাল পাড়ায় পাল বাড়ির পুজো ঘিরে একসময় এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ছিল। পরিবারের স্বজনরা সকলে জড়ো হতেন এই পুজোয়। পাল পরিবারে চতুর্থ পুরুষ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হারাধন পাল হলেন, চতুর্থ পুরুষ। হারাধন পাল জানান অজব পাল তার প্রপিতামহ। তিনি ছিলেন এই পরিবারের দুর্গাপূজা প্রতিষ্ঠাতা। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের রাজার সোনার কারিগর অজব পাল এবং তার দাদা গনেশ পাল তাদের পিতামাতা মারা যাওয়ার পরই চলে এসেছিল ঝাড়গ্রাম জেলার বিনপুরে। বিনপুরের কাছে কাঁকো গ্রামে বিভিন্ন সূত্রে যাতায়াত ছিল আজব পালের। সেই গ্রামে দুবে পরিবারের দুর্গাপুজো হত। একবার কোনো কারণে দুবে পরিবারের অষ্টমীতে পুজো বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া কাঁকো গ্রামের দুবে পরিবারের পুকুরে সেই কাঠাম ভেসে ছিল।


অজব বাবু কে একদিন সন্ধ্যা নাগাদ বিনপুর বাড়ি ফেরার পথে এক চালায় দেবী দুর্গা দর্শন দেন। এইভাবে বেশ কয়েকবার দেবী দৃশ্যমান হোন। একদিন দুপুরে দুবের পুকুরের কাছেই একটি গাছের তলায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন আজব বাবু। সেখানে আবার দেবী দর্শন দেন। দেবী তার কাছে যেতে চান বলে জানান। এরপর একদিন বাড়িতে অজব বাবুর মায়ের রূপে দেবী দেখা দিয়েছিলেন। সেই সময় অজব বাবুদের দুর্গাপুজো করার মতো অবস্থায় ছিলো না। কিন্তু দেবী শুধু আতপ চাল আর বেল পাতাতেই পুজো চেয়েছিলেন। এর পরেই পাল বাড়িতে শুরু হয় দুর্গাপূজা পুজো। দুবেদের পুকুরে ভাসানো প্রতিমার কাঠামো তুলে এনে তাতে প্রতিমা গড়ে শুরু হয় পুজো। পাল বাড়ির পুজোয় কোন পশু বলির প্রথা নেই। কুমড়ো বলি দেওয়া হয়। বৈষ্ণব মতে এই পুজোয় মাছও দেওয়া হয়না। মহালয়া থেকে শুরু হয় নিরামিষ। দশমীর দিন ঘট বিসর্জন এর পরই হয় মৎস্যমুখী। বিকেলে হয় প্রতিমা বিসর্জন। সন্ধিপুজোয় বিশেষ ভোগ হয়। লুচি এবং মোহনভোগ। দশমীর দিন হয় চিড়া ভোগ। পাল পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এই পুজো শুরু করে ভাগ্য ফিরেছিল অজব বাবুর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

eight + 17 =