মধ্যবিত্তের মাথায় হাত।মাঠেই সেঞ্চুরি করল পিঁয়াজ।সঙ্গে রানে দৌড়াচ্ছে পেট্রোল

Print This Post Print This Post
16

মধ্যবিত্তের মাথায় হাত।মাঠেই সেঞ্চুরি করল পিঁয়াজ।সঙ্গে রানে দৌড়াচ্ছে পেট্রোল

লকডাউন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই সাধারন মানুষের নিত্য খরচে পড়ল খা৺ড়ার ঘা। পেট্রোল ও ডিজেলের দাম হল উর্ধমূখী,এক কথায় যাকে বলে আকাশছোঁয়া।তার সাথেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পে৺য়াজের দামও। সাধারন মানুষের নাগালের বাইরে পেট্রোল এবং পে৺য়াজ।বীগত ৭দিনে পেট্রোলের দাম বেড়েছে লিটার প্রতি ২টাকা ৩৬পয়সা। পেট্রোলের দাম দিল্লিতে ৮৯.২৯টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১.১৭টাকা, মুম্বাইয়ে ৯৫.৭৫টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭.৫৭টাকা। এছাড়াও, বর্তমানে লিটার প্রতি পেট্রোলের দাম কলকাতায় ৯১.৩৫টাকা, চেন্নাইয়ে ৯৩.১১টাকা, বেঙ্গালুরুতে ৯৪.২২টাকা, আহমেদাবাদে ৮৮.৩১টাকা,চন্ডীগড়ে ৮৭.৭৩টাকা,ভূপালে ৯৯.২১টাকা,ভূবনেশ্বরে ৯১.৯০টাকা, এলাহাবাদে ৮৯.৩৪টাকা।২০২১ সালে এখনও পর্যন্ত লিটার প্রতি পেট্রোল ও ডিজেলের দামে বৃদ্ধি হয়েছে ২০ বারে যথাক্রমে ৫টাকা ৫৮ পয়সা এবং ৫টাকা ৮৩ পয়সা।এই দাম বৃদ্ধি শুরু হয়েছে ১৭ই সেপ্টেম্বর থেকে।

২০২০র কোরোনা পরিস্হিতিতে লকডাউনের কারণে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায়, বাজারে পেট্রোলের চাহিদা কমে যায়। ফলস্বরূপ, আন্তর্জাতিক স্তরে পেট্রোলের দাম কমে যায়। এইসময় পেট্রোল উৎপাদন কোম্পানিগুলির যে পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়,তার পূরণের জন্য লকডাউন উঠে যাওয়ার পর পেট্রোলের দাম আন্তর্জাতিক স্তরে অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও, ভারতবর্ষে যেসব জায়গাগুলি থেকে বেশিরভাগ তেল সরবরাহ করা হয়,সে জায়গাগুলিতে তেলের উৎপাদন কমিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে মুনাফা বৃদ্ধির জন্য। এছাড়াও, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার পেট্রোলের এবং ডিজেলের উপর কর বাড়িয়ে দিয়েছে।কোভিড-১৯-এর পরিস্থিতির পর, অনেক উন্নয়নের কাজের জন্য টাকার দরকার,তাই এই কর বৃদ্ধি।

পেট্রোলের সাথে সাথে পে৺য়াজের দামও দিন দিন বেড়ে চলেছে। আগষ্টের শেষ সপ্তাহ থেকে ধীরে ধীরে বেড়ে যাচ্ছে পে৺য়াজের দাম। উত্তর কর্ণাটকে ভারী বৃষ্টির ফলে পে৺য়াজ ব্যবসায়ীদের প্রচুর পরিমাণে ক্ষতি হয়।এই পে৺য়াজ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাজারে পৌছোনোয কথা ছিল।তবে অক্টোবরের শেষে মহারাষ্ট্র থেকে বাজারে পে৺য়াজের সেই চাহিদা পূরণ করা হয়।এই ভারী বৃষ্টি শুধু যে কর্ণাটকে পে৺য়াজ নষ্ট করেছে তাই নয়,বরং মধ্যপ্রদেশ, গুজরাটের মত জায়গায় সংরক্ষিত পে৺য়াজের ওপর টোলও বাড়িয়ে দিয়েছে। সেক্ষেত্রে মহারাষ্ট্রের কাছে সংরক্ষিত পে৺য়াজই বাজারে পাঠানোর একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। গরমের শুরুতে, মহারাষ্ট্রে প্রায় ২৮ লক্ষ টন পে৺য়াজ সংরক্ষিত ছিল। কিন্তু মহারাষ্ট্রকেও ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।কারন যেসব জায়গাগুলিতে প্রধানত পে৺য়াজের ফলন বেশি ,যেমন আহমদনগর,নাসিক ও পুনে, সেখানেও বৃষ্টি হয়।ফলে সাধারণত যে পরিমাণ পেঁয়াজ মজুত করা হতো তা এবছর সম্ভবপর হয়নি। ফলস্বরূপ সমস্ত জায়গায় পেঁয়াজের দাম অত্যাধিক পরিমাণে বেড়ে গেছে। পেঁয়াজের দাম বর্তমানে দিল্লিতে ৫৮ টাকা প্রতি কেজি, মুম্বাইয়ে ৯৭টাকা প্রতি কেজি, চেন্নাইতে ৮৩ টাকা প্রতি কেজি, কলকাতায় ৮০ টাকা প্রতি কেজি। এছাড়াও বিভিন্ন ছোট ছোট শহরতলী ও গ্রামাঞ্চলে বিক্রেতারা নিজেদের মুনাফা বাড়াতে ক্রেতাদের কাছে বেশি দাম নিচ্ছেন।

এবার প্রশ্ন হল,এই অত্যধিক হারে মূল্য বৃদ্ধি সাধারন মানুষের জীবনে কতটা পরিবর্তন এনেছে! মানুষের জীবনের জীবনের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি মধ্যবিত্তদের পকেট শূন্য করে দিচ্ছে ।লকডাউন পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যে অনেকেই চাকরিহারা এবং প্রায় সকলেরই আর্থিক অনটন। সেখানে দাঁড়িয়ে, মানুষ তখন সবেমাত্র সামলে উঠছে, পেট্রোল,ডিজেল ও পে৺য়াজের আকাশছোঁয়া দাম একটা বড় ধাক্কা তাদের নির্দিষ্ট ব্যয়ে। পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে ভাড়াও বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। ফলে যারা প্রতিনিয়ত ট্রেনে,বাসে যাতায়াত করেন তাদের নিত্যখরচের পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। অনেকেই নিজস্ব গাড়ির ব্যবহারও কমিয়ে দিয়েছেন। পেট্রোলের মূল্য বৃদ্ধি বাজারে চোরা কারবারও বৃদ্ধি করেছে। অনেক জায়গায় শোনা যাচ্ছে নেপাল সীমান্তের কাছে অনেকেই নেপাল থেকে সস্তায় পেট্রোল এনে বাজারে চড়া দামে বিক্রি করছেন। এছাড়াও পে৺য়াজের আগুন দাম মধ্যবিত্তদের চিন্তায় ফেলেছে। পেট্রোলের দাম বেড়ে যাওয়ায় যেসব জিনিস বাইরে থেকে আমদানি করা হয়,সেসব জিনিসের পরিবহন শুল্ক বেড়ে গেছে।পে৺য়াজের দাম বেড়ে যাওয়ার এটিও একটি অন্যতম কারণ। ভোজনরসিক বাঙালির খাদ্য তালিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পে৺য়াজ।এই অত্যধিক মূল্য বৃদ্ধি বাঙালির খাদ্য তালিকারও পরিবর্তন ঘটিয়েছে। সাধারন মানুষের মতে,সব কিছুর মূল্য লকডাউন থেকে পাল্লা দিয়ে বাড়লেও, বাড়েনি তাদের মাসিক আয়। ফলে জীবনের নিত্য প্রয়োজনের চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম খাচ্ছে তারা। সাধারন মানুষ আশায় আছে, সরকার তাদের কথা মাথায় রেখে সমতা বজায় রেখে ভবিষ্যতে এই মূল্য বৃদ্ধির সুরাহা করবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

twelve − 6 =