বিশ্ব নারীদিবস নিয়ে এখনকার নারী

Print This Post Print This Post
18

বিশ্ব নারীদিবস নিয়ে এখনকার নারী

প্রাচীন ভারতে বৈদিক যুগে সমাজে নারীদের স্বাধীনতা ছিলো, নারী শিক্ষাও ছিল অবাধ অধিকার। লোপামুদ্রা, বিশ্ববারা, গার্গী, মৈত্রেয়ী, অরুন্ধতি প্রমুখ মহিয়সী নারীদের নাম, ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। নারী সেই সময় পুরুষের কেবলমাত্র সহধর্মিনী ছিলোনা, সহকমিনী ছিলো, এমনকি বেদের পঠন পাঠনেও তাহাদেড় সমান অধিকার ছিলো। উপবীত ধরণে, বৈদিক মন্ত্র রচনায় মহিলারা স্বরণীয় হয়ে আছে। বৌদ্ধ যুগেও নারীদের সমান অধিকার ছিলো, সুজাতা, সুপ্রিয়া, সংঘমিত্রার নাম বৌদ্ধধর্ম প্রচারের ইতিহাস অম্লান মহিমায় আজও ভাস্বর। শিক্ষায় দীক্ষায়,কৃষ্টি ও সাংস্কৃতিতে তারা ছিলো মহান। তারপর আসলো মধ্যযুগ, ঐ সময় শিক্ষন ও স্বাধীনতার উন্মুক্ত জগৎ হতে নারীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লো, প্রগতির সব পথ রুদ্ধ হয়েগেলো। তারা প্রাণহীন আচার কুসংস্কারের মধ্যে আত্মনিয়োগ করলো, তাঁদের গ্রাস করলো কৌলিন্য প্রথা, বাল্যবিবাহ প্রথা ও সতী দাহ প্রভিতি নানা নিষ্ঠুর প্রথায়, নিষ্ঠুর শাসনে। রামমোহন সতীদাহ প্রথার উচ্ছেদ করিলেন, বিধবা বিবাহ প্রবর্তন এবং সেই সময় নারী শিক্ষার আন্দলোনে ব্রতী হলেন বিদ্যাসাগর মহাশয়, নারীরা আবার স্বাধীনতা পেলো, সমাযে স্বীকৃতি পেলো, নিজের পায়ে দাঁড়ালো, পুরুষের সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে চলতে শুরুকরল, বিভিন্ন রকম পেশার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করলো। কিন্তু আজও 2021 এ দাঁড়িয়ে ভাবতে হয়ে সত্যি কি আমরা স্বাধীন? আমরা পুরোপুরি সুরক্ষিত?নারী নির্যাতন যেনো প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। খবর কাগজ পড়লে, টিভি খুলে, সোশ্যাল মিডিয়াতে, প্রতিদিন ধর্ষণ, বধূ হত্যা সোনা যায়,না পনের টাকা দিতে পারেনি বলে ছেলের বৌকে মানসিক,দৈহিক নির্যাতন মুখ বুজে সহ্য করতে হয়,বাসে, ট্রেনে বা কোনো ভিড়পরিবেসে কোনো মেয়ে কিছু নোংরা বা পিচাশ পুরুষ সামনে থাকলে তো কোনো কথাই নেই, ভাবে যেন মেয়েটা ঐ নোংরামানসিকতা পুরুষটার সম্পত্তি। শুধু মেয়েটার গায়ে হাতদেবার ইচ্ছা প্রকাশ করবে,আর নিজের খিদে মেটাবে। নারী দিবস একদিন পালন ঘটা করে পালন করে কিছু হবেনা, নারী কে ঘরে বাইরে সব জায়গাতেই সম্মান দিতে হবে, সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে, নারীকে সম্মান দিতে, তবেই হবে নারীদিবসের স্বার্থকতা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

10 − six =