“ফুচকার” জন্মরহস্য

Print This Post Print This Post
39

“ফুচকার” জন্মরহস্য

ফুচকা সকলের খুব জনপ্রিয় খাবার। স্ট্রিট ফুডের তালিকায় সর্বোচ্চ্চ স্থানে রয়েছে ফুচকার নাম। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নামে পরিচিত এই ফুচকা। কোথাও পানিপুরি, কোথাও গোলগাপ্পা,কোথাও আবার গুপিচুপি নামেও পরিচিত আমাদের সকলের প্রিয় খাবার ফুচকা।বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরণের ফুচকা খাওয়া হয়, সেই অনুযায়ী করা হয় ফুচকার বিভিন্ন নামকরণ। ফুচকার এই টক-ঝাল-মিষ্টি স্বাদের জন্য বাচ্চা থেকে বুড়ো সকলের বড়োই প্রায় এই খাবার।ময়দা ও সুজির মিশ্রনে তৈরী, আলুর পুর সহযোগে টক-ঝাল-মিষ্টি জলের ফুচকার স্বাদের কোনো তুলনায় হয়না। ফুচকা আমার সকলেই ভালোবাসি, সারা ভারতবর্ষ জুড়ে রয়েছে এর খ্যাতি, তবে ফুচকা প্র্মীদের মনে প্রশ্ন হলো এই ফুচকার উৎপত্তি কবে, কোথায় এবং কিভাবে? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর কেউ জানেনা। তবে পরাণিক কাহিনী ঘটল ফুচকার উৎপত্তি সংক্রান্ত একটি আকর্ষণীয় গল্প পাওয়া যায়।
মহাভারতের কাহিনী থেকে জানা যাই, ফুচকার আবিস্কারক ছিলেন পঞ্চপাণ্ডবের স্ত্রী দ্রৌপদী। অবিশ্বাস্য হলেও এতটাই সত্যি। এই রূপবতী ও গুণবতী নারী এই মুখরোচক, সকল প্রিয় ফুচকা প্রথম বানিয়েছিলেন নিজের স্বামীর জন্য।কাহিনী অনুযায়ী, পঞ্চপাণ্ডবের মাতা কুন্তী পুত্রবধূ দ্রৌপদীর রন্ধন ক্ষমতা বিচার করতে তাকে কিচ্ছু সবজি, ময়দা ও সুজি দিয়ে পঞ্চপাণ্ডবদের জন্য রান্নার আদেশ দেন।শ্বাশুড়ি মায়ের নির্দেশে দ্রৌপদী তার দেওয়া উপকরণ দিয়ে বানিয়ে ফেলেন সুস্বাদু ফুচকা।দ্রৌপদী ময়দা ও সুজি মিশ্রিত ছোট ছোট গোলার মধ্যে সবজির পুর দিয়ে বানান এই ফুচকা। পুত্রবধূর হাতের তৈরী এই অভিনব ও নতুন রান্না পেয়ে কুন্তী খুব খুশি হয়ে তিনি এই খাদ্য বস্তু অর্থাৎ ফুচকাকে অমরত্বের বরদান করেন।
আবার, খাদ্যবিশেষজ্ঞরা পৌরাণিক কাহিনীর সাথে একমত নন। তাদের দাবি এই অত্যন্ত সুস্বাদু ফুচকা ষোড়শ মাহাজনপদের মগধ সাম্রাজ্য চলাকালীন আবিষ্কৃত হয়। তবে কিভাবে, সে কাহিনী সবার অজানা।
তবে উৎপত্তি মগধ সাম্রাজ্যে হোক কিংবা মহাভারতের দ্রৌপদীর হাতে, আদিকাল থেকেই জনপ্রিয় ফুচকা। আজও আর জনপ্রিয়তা এতটুকুও কম হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

five + 12 =