তিনদিনে জয় ভারতের, ইতিহাস গড়ল বিরাট বাহিনী

Print This Post Print This Post
53

সৌরভ দত্ত : ১৯৫ রানে শেষ বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস খতম৷ মাহমদুল্লাহর মাংসপেশি টানের কারণে তিনি আর নামতে পারেননি৷ মুশফিকুর রহিমের ৭৪ রানে অপরাজিত থাকেন৷ তার এই লড়াই অবশ্য বাংলাদেশের হারকে প্রলম্বিত করলেও আর কিছু করতে পারল না৷  ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস বিরাট কোহলিদের৷ প্রথম ঐতিহাসিক ” পিঙ্ক বল” টেস্টে জিতে নজির গড়ল ভারতীয় দল৷ পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে আরও একটা ইনিংসে হারিয়েও নতুন মাইলস্টোন গড়লেন রোহিত-ইশান্ত-শামি-উমেশরা৷ ইতিহাস মাথায় নিয়ে ঘুমিয়েছিল কলকাতা, আর রবিবার সকাল হতেই ইডেনের গ্যালারি ভরিয়ে দিয়েছিলেন টিম ইন্ডিয়ার ফ্যানরা৷ আর কোনও মিরাকেল হল না৷ একেবারে প্রত্যাশিত ভাবেই বাংলাদেশ বধ করে সিরিজ ২-০ জিতে নিল ভারত৷ প্রথম ইনিংসে ইশান্ত শর্মা নিয়েছিলেন ৫ উইকেট আর দ্বিতীয় ইনিংসে উমেশ যাদব নিলেন ৫ উইকেট৷ দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেট নেন ইশান্ত শর্মা৷ এদিকে ম্যাচের দ্বিতীয় দিনেই ছবিটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল৷ ধারাবাহিক বিপর্যয় জারি বাংলাদেশ শিবিরে৷ প্রথম ইনিংসে লজ্জাজনক পারফরম্যান্সের পর দ্বিতীয় ইনিংসের ছবিটাও সেই এক ৷ দ্বিতীয় দিনের শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৬ উইকেটে ১৫২ রান৷ এখনও ভারতের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ৮৯ রানে পিছিয়ে বাংলার বাঘরা৷ ২৪১ রানের লিড নিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ডিক্লেয়ার দিল ভারতীয় দল৷ ৯ উইকেট হারিয়ে ৩৪৭ রান এই অবস্থায় মাঠ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন বিরাট কোহলি৷ সে সময় ক্রিজে ব্যাট করছিলেন ঋদ্ধিমান সাহা৷ আসলে সন্ধ্যার কন্ডিশনে বোলরদের ক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার করতে চেয়েছেন অধিনায়ক কোহলি৷ আর নিজের স্ট্র্যাটেজিতে সফলও বিরাট কোহলি৷ এদিন শুরু থেকেই নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট খোয়াতে থাকে বাংলাদেশ৷ শামদান, ইমরুল, অধিনায়ক মমিনুল হক, মহম্মদ মিঠুন এই প্রথ চার বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের স্কোর যথাক্রমে ০.৫.০.৬৷ একসময় মনে হচ্ছিল তৃতীয় দিনেও আর গড়াবে না ঐতিহাসিক পিঙ্ক বল টেস্ট৷ কিন্তু মুশফিকুর রহিম ও মহমদুল্লাই কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন৷ মহমদুল্লাহ ৩৯ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হলেও ৫৯ রানে এখনও রয়েছেন মুশফিকুর৷ এদিন ভারতীয় বোলারদের মধ্যে প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও আগুন ঝরাচ্ছেন ইশান্ত শর্মা ৷ তিনি এখনও অবধি নিয়েছেন ৪ উইকেট আর উমেশ যাদব নিয়েছেন ২ উইকেট৷ এদিকে পিঙ্ক বলে প্রথম ভারতীয় হিসেবে শতরানের নজির গড়েন অধিনায়ক বিরাট কোহলি এর পাশাপাশি আরও একাধিক মাইলস্টোনও এই ম্যাচের পারফরম্যান্স দিয়ে অ্যাচিভ করলেন তিনি৷ পিঙ্ক বল টেস্টে ১৯৪ বলে ১৩৬ রান করে আউট হন ক্যাপ্টেন কোহলি৷ তাঁর এদিনের ইনিংস সাজানো ১৮ টি চার দিয়ে৷ অজিঙ্ক রাহানে অবশ্য অর্ধশতরান করার পরেই আউট হয়ে যান৷ জাডেজা-অশ্বিনরা খুব একটা স্বচ্ছন্দ কেউই হতে পারছিলেন না৷ তাই অধিনায়ক কোহলি সিদ্ধান্ত নেন ম্যাচ ডিক্লেয়ার দেওয়ার৷ এদিকে এর আগের দিন রোহিত শর্মা ও ময়াঙ্ক আগরওয়ালকে দ্রুত প্যাভিলয়নে ফিরিয়ে দিলেও ভারতকে বিশেষ বাগে আনতে পারল না বাংলাদেশ৷এদিন বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে করা ১০৬ রানের পর ব্যাট করতে নেমে অর্ধশতরান করে নেন চেতেশ্বর পূজারা ও অধিনায়ক বিরাট কোহলি৷ অধিনায়ক হিসেবে বিরাট কোহলি টেস্টে ৫০০০ রান পূরণ করে ফেলেলন৷ দিনের শেষে ৬৮ রানের লিড ভারতের ৷ ৫৯ রানে ব্যাট করছৈন কোহলি ও রাহানে করছেন ২৩ রানে৷ পয়া ইডেন খালি হাতেই ফেরাল রোহিত শর্মাকে৷ একটি ছয় ও দুটি চার মারলেও ৩৫ বলে ২১ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন হিটম্যান৷ ইনদওরে দ্বিশতরানের মালিক ময়াঙ্ক ফেরেন ২১ বলে ১৪ রান করে৷ এরপর অবশ্য ক্রিজে উইকেট ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর ছিলেন চেতেশ্বর পূজারা এবং অধিনায়ক বিরাট কোহলি৷ ১০৫ বলে ৫৫ রান করে এবাদত হোসেনের শিকার পূজারা৷ তাঁর ইনিংসে তাঁর রয়েছে ৮ টি চার৷ এদিকে দুটো সেশনও গেল না তার আগেই শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস৷ ৩০.৩ ওভারে ১০৬ রানে অলআউট হয়ে গেল বাংলাদেশ ৷ ইশান্ত শর্মা ৫ উইকেট, উমেশ যাদব ৩ উইকেট, মহম্মদ শামি ২ উইকেট নেন৷ প্রথম টেস্টে প্রথমে ব্যাট করে ফ্লপ শো দেখিয়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা৷ ইডেনেও সেই ধারা অব্যহত৷ এদিন নেমে থেকে পরপর আউট হতে থাকেন বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা৷ এদিন বাংলাদেশি ওপেনার শাদমান ইসলাম ২৯ রান করেন৷ এছাড়াও ২৪ রান করে রিটাযার্ড হার্ট হয়ে যান লিটন দাস৷ এছাড়া ১৯ রান করেন নইম হাসান৷ চারটি ব্যাটসম্যান শূন্য রান করেন৷ এছাড়া বাকিরা দুই অঙ্কের রানে পৌঁছতে পারেননি৷
২য় দিন বিরাট কোহলির মারকাটারি ইনিংস দেখতে দেখতে তৃতীয় দিন ম্যাচ দেখার আগ্রহ আরও বেড়েছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের। কিন্তু সন্ধে নামতেই সে গুড়ে বালি। ইশান্ত-উমেশ পেস অ্যাটাকের সামনে ছয় উইকেট খুইয়ে বসে বাংলাদেশ। ফলে রবিবার যে খেলা খুব বেশি দূর এগোবে না, তা বাচ্চা ছেলেও আন্দাজ করতে পেরেছিল। এদিন মেরেকেটে খেলা হল ৫০ মিনিট। আর তারপরই রচিত হল নয়া ইতিহাস। বাংলাদেশকে ইনিংসে হারিয়ে ভারতের প্রথম পিংক টেস্ট স্মরণীয় করে রাখলেন বিরাট কোহলিরা। ভারতীয় দলের ‘আনসাং হিরো’দের তালিকা বানালে একটি নাম হয়তো উপরের দিকে থাকবে। তিনি ইশান্ত শর্মা। যিনি নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলি উজার করে দিলেন পিংক টেস্টে। দুই ইনিংস মিলিয়ে তুলে নিলেন ন’টি উইকেট। উমেশ পেলেন পাঁচটি। ব্যস, এতেই শেষ সফরকারীরা। মুশফিকুর রহিমের দাঁতে দাঁত চাপা ইনিংস এই পেস ঝড়েই কোথায় যেন ধামা চাপা পড়ে গেল। এখন ইডেন তথা গোটা দেশজুড়ে ভারত বন্দনায় মেতেছেন সমর্থকরা। পিংক বলেও যে মিরাকল সম্ভব, প্রতিপক্ষের রাতের ঘুম উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব, তা প্রথমবারেই প্রমাণ করে দিল টিম ইন্ডিয়া। তৃতীয় দিন ম্যাচ দেখতে গিয়ে দর্শকরা খুব বেশিক্ষণ ম্যাচ উপভোগ করতে পারলেন না ঠিকই, কিন্তু সেই তারকাদের চাক্ষুস করলেন, যাঁদের নাম চিরতরে ইতিহাসে লেখা হয়ে গেল। এই জয়ের সঙ্গে শুধু বাংলাদেশকে ২-০ হোয়াইটওয়াশই করল না ভারত, ঘরের মাঠে টানা ১২টি সিরিজ জিতে নয়া নজিরও গড়লেন ক্যাপ্টেন কোহলি। এখানেই শেষ নয়, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরুর পর টানা সাতটি টেস্ট জিতে ৩৬০ পয়েন্ট ঘরে তুলল ভারত। আবার বিশ্বের প্রথম দল হিসেবে পরপর চার টেস্টে প্রতিপক্ষকে ইনিংস হারানোর রেকর্ডও গড়ল টিম ইন্ডিয়া। আর এই কৃতিত্বের জন্য নয়া পালক যোগ হল কোহলির মুকুটে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

4 × three =