খাটুয়া বাড়ির দুর্গা পুজোর এক অন্য কাহিনী

Print This Post Print This Post
39

প্রান্তিক মৈত্র, ঝাড়গ্রাম : ছুটির দিনে হাতে চায়ের পেয়ালা নিয়ে গল্পে মজে ছিল সবাই। পুজোর ছুটিতে কে কোথায় বেড়াতে যাবে তা নিয়ে কথা হচ্ছিল। গ্রাম থেকে তিন – চার কিমির মধ্যে তো কোন পুজো হতো না। বাড়ির বড়রা গ্রামে থেকে পুজো দেখার কথা বলছিলেন। সেই আলোচনাতেই উঠে আসে বাড়িতে পুজো শুরু হলে কেমন হয়। সেই আলোচনার সময় হাজির হয়েছিলেন প্রতিমা শিল্পী, ডেকোরেটরের লোকজন। তবে কি ঠাকুর খাটুয়া বাড়ির পুজো চাইছেন। তখন দুর্গাপুজোর আর বাকি ছিল মাত্র কুড়ি বাইশ দিন। তার মধ্যেই আয়োজন করে শুরু হয়েছিল খাটুয়া বাড়ির দুর্গা পূজা। এই ভাবেই হঠাৎ করেই গোপীবল্লভপুর ২ ব্লকের কালিজ্ঞা গ্রামের খাটুয়া বাড়িতে শুরু হয়েছিল দুর্গাপুজো। বৈষ্ণব মতে অত্যন্ত নিষ্ঠা সহকারে খুঁটিনাটি নিয়ম মেনে গত সাত বছর ধরে হয়ে আসছে দুর্গাপুজো। এবার অষ্টম তম বর্ষ। আইআইটি প্রফেসার ভানুভুষন খাটুয়া এবং তার খুড়তুতো ভাই চন্দন খাটুয়া মূল উদ্যোগে খাটুয়া পরিবারে শুরু হয়েছিল দুর্গাপুজো।


খাটুয়া পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এই পরিবারের পুজোর জন্য প্রয়োজনীয় সমুদ্রের জল, নদীর জল, ঝরনার জল, বৃষ্টির জল, শিশির, রাজবাড়ির মাটি, দেবালয়ের মাটি, চৌ রাস্তার মাটি, গোচারণ সহ বিভিন্ন সামগ্রী পরিবারের লোকেরা নিজেরাই সংগ্রহ করেন। পঞ্চমীর দিন বেল গাছের তলায় বেদি করে বেল গাছ কে পূজা করা হয়, বোধন হয়। এই পরিবারের পুজোয় প্রতিদিন দেবীকে অন্নভোগ দেওয়ার চল রয়েছে। প্রতিদিন অঞ্জলি দিতে আসা দর্শনার্থীরা আন্নভোগ গ্রহণ করে। এই পরিবারের পুজোর সবথেকে বড় বিষয় হলো অন্যান্য বাহ্যিক বিষয়ে জোর না দিয়ে নরনারায়ন সেবা। অষ্টমীর দিন পুরো গ্রামের মানুষ এখানে আসেন এবং তাদের বসে খাওয়ানো হয়। খিচুড়ি পায়েস সহ ব্যঞ্জন দিয়ে হয় খাওয়া-দাওয়া। খাটুয়া পরিবারের পুজোর দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জন হয় না। দ্বাদশীর দিন প্রতিমা বিসর্জন হয়। ঐদিন গ্রামের বহু মানুষ সামিল হন। বিসর্জনের পর মিষ্টিমুখ করা হয় এবং রাতে মাছ-মাংস সহযোগে চলে খাওয়া-দাওয়া।
ভানু ভূষণ খাটুয়া বলেন, আমাদের বাড়ির পুজো হঠাৎ করেই শুরু হয়েছিল। পুজোর বাকি ছিল মাত্র কুড়ি বাইশ দিন। বাড়িতে দুর্গাপূজা শুরু করলে কেমন হয় ? গ্রামের মানুষ পুজো দেখতে পারবেন। ওই আলোচনার সময় হঠাৎ উপস্থিত হন প্রতিমা শিল্পী, ডেকোরেটর এর লোকজন। বাস সেই থেকেই শুরু হয়েছে আমাদের বাড়ির পুজো। সুশীল খাটুয়া বলেন, আমার ভাইপো ভানু ভূষণ খাটুয়া আর আমার ছেলে চন্দন খাটুয়া এদের উদ্যোগেই বাড়িতে পুজো শুরু হয়েছিল। কথার ছলে দুর্গাপুজোর কথা ওঠে। প্রতিমা শিল্পীও ওইদিনই উপস্থিত হয়েছিলেন। তাই আমরা সবাই ভাবলাম দেবী বোধহয় আমাদের বাড়ি থেকে পুজো নিতে চাইছেন। আমরা নিয়ম মেনে নিষ্ঠা সহকারে পুজো করি। আয়োজনে কোন ত্রুটি রাখিনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

three × five =