এক মহিলার অর্ধদগ্ধ দেহ উদ্ধার

Print This Post Print This Post
29

নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল : রানীগঞ্জের নিমচা গ্রামের জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় এক মহিলার(৩২) অর্ধদগ্ধ দেহ উদ্ধার করল নিমচা ফাঁড়ির পুলিশ। জেকে নগর আর কোলিয়ারি প্রজেক্টে এর কিছুটা দূরে জঙ্গলের মাঝে দেহটি লক্ষ্য করে ওই এলাকায় কোলিয়ারিতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই নিরাপত্তারক্ষী। স্থানীয়দের দাবি, অন্য কোথা থেকে ওই মহিলাকে হত্যা করে এনে এখানে পেট্রোল দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই মৃতদেহের পাশে একটি পেট্রোলের খালি জার পাওয়া গেছে। দেহটি কোন বিবাহিত মহিলার বলে অনুমান পুলিশের। স্থানীয়রা দেহটি শনাক্ত করতে পারেনি। দেহটি উদ্ধার করে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এদিন ঘটনাস্থলে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের সেন্ট্রাল এসি পি ওই স্থানটি খতিয়ে দেখে দেহের নমুনা সংগ্রহ করেন। স্থানীয়দের দাবি শুনশান নির্জন এই জঙ্গলে বর্ষার দিনে মানুষজনের আসা-যাওয়া অনেকটাই কম। তাছাড়া পুরো এলাকা গাছগাছালিতে পরিপূর্ণ, যার জেরে রাতের অন্ধকারে কে বা কারা এই জঙ্গলে দেহ ফেলে রেখে জ্বালিয়ে দিয়ে গেছে তা সম্পর্কে একেবারেই অবগত নয় কেউ। জায়গাটি নির্জন থাকায় দুষ্কৃতীরা ওই অংশে মৃতদেহ ফেলে রেখেছে বলেই অনুমান এলাকাবাসীর। এলাকায় বেশ কিছু ইটভাটা থাকলেও বর্ষাকালে ভাটার কাজ বন্ধ ফলে মানুষজনের যাতায়াত এই অংশে কম, যে কারণে এই অংশটি বেঁচেছে বলেই অনুমান ভাটা মালিকদের। তবে স্থানীয়দের দাবি দুষ্কৃতীরা এই ফাঁকা এলাকা সম্পর্কে আগে থেকেই ওয়াকিবহাল ছিলেন। যে কারণেই তারা দেহটি এখানে ফেলে রেখে যায়। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় যে, ওই এলাকার আশেপাশে ঘাস মাড়িয়ে কোন চার চাকার গাড়ি ওই এলাকায় পৌঁছেছে। সম্ভবত সেই গাড়িতে করেই দেহটি সেখানে এনে ফেলা হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। পাশাপাশি লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে দেহের বা প্রান্তটি একেবারে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। দেহের মধ্যে থাকা হাতের শাঁখা পলা দেখে অনুমান করা যায় কোন বিবাহিত মহিলার দেহ সেটি। তবে মৃত দেহ দেখে অনুমান ওই মহিলার হত্যাকারীরা অত্যন্ত নিশংস ভাবে তাকে হত্যা করে এই জঙ্গল এলাকায় ফেলে গেছে। পুলিশ সমস্ত বিষয়গুলি খতিয়ে দেখে তার আশেপাশে থাকা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নমুনা সংগ্রহ করেছে যা তাদের তদন্তে সাহায্য করবে বলেই দাবি করছে পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

18 + twenty =